অধীর-গড়ে বড়সড় ধস, বহরমপুরে হারের শঙ্কায় কংগ্রেসের ‘রবিনহুড’

মুর্শিদাবাদের দীর্ঘকালীন কংগ্রেসী দুর্গে এবার কি তবে পতন হতে চলেছে? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ড অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ১২০০-রও বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন খোদ প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে বড়সড় লিড নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির সুব্রত মৈত্র। একসময়ের অপ্রতিরোধ্য এই দুর্গে অধীর চৌধুরীর পিছিয়ে পড়া রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পিছিয়ে পড়ার নেপথ্য কারণ
অধীর চৌধুরী এবং বহরমপুর—একসময় এই দুটি শব্দ ছিল একে অপরের সমার্থক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে গণনার শুরু থেকেই ছবিটা আলাদা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলাজুড়ে তৃণমূলের শক্ত অবস্থান এবং অন্যদিকে বিজেপির ক্রমবর্ধমান হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক, এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝেই চিড় ধরেছে অধীর চৌধুরীর একচ্ছত্র আধিপত্যে। পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম-এর প্রাথমিক রাউন্ড শেষে দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী সুব্রত মৈত্র সেখানে অধীর চৌধুরীর চেয়ে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এই ব্যবধান ১২০০-র গণ্ডি পার করে দেওয়ায় যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় পড়েছে হাত শিবির।
সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
সুব্রত মৈত্রের এই লিড যদি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে তা হবে বাংলার নির্বাচনের অন্যতম বড় ‘আপসেট’। বহরমপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে কংগ্রেসের পিছিয়ে থাকা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন জেলার রেজিনগর ও নওদাতে হুমায়ুন কবীরের মতো নেতারা লিড ধরে রেখে প্রভাব বিস্তার করছেন, সেখানে অধীর চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে টিকে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিকেলের মধ্যেই পরিষ্কার হবে যে, অধীরবাবু শেষ মুহূর্তে কোনো ‘ম্যাজিক’ দেখাতে পারেন কি না, নাকি বহরমপুরের মসনদে বসতে চলেছেন পদ্ম শিবিরের প্রার্থী। আপাতত জেলা সদর বহরমপুরজুড়ে বইছে টানটান উত্তেজনা।