বিজয় মিছিলে কমিশনের কড়া শর্ত, অশান্তি রুখতে তৎপর সিইও

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলাকালীন বিজয় মিছিল ও উদযাপন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উল্লাসের আবহ তৈরি হলেও, ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, জনমানসে শান্তি বজায় রাখাই এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার।
অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ উদযাপন
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, বিজয় মিছিলের ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিচার করে আজ কোনো প্রকার উদযাপন না করাই শ্রেয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দল যদি মিছিল করতে চায়, তবে তাদের আবশ্যিকভাবে কমিশনের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। বিনা অনুমতিতে রাস্তায় জমায়েত বা বিজয়োল্লাস করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোটগণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটার পরিধির মধ্যে ইতিমধ্যেই বিএনএস ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
শান্তি রক্ষায় মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী
ভোটের ফল প্রকাশের পর অনেক সময় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই আশঙ্কায় কমিশন জানিয়েছে, গণনা শেষ হওয়ার পরও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সিইও মনোজ আগরওয়াল গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কমিশনের মতে, দুই দফার ভোট যেভাবে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই মিটেছে, সেই ধারা গণনা পরবর্তী সময়েও বজায় রাখা জরুরি।
প্রভাব ও সতর্কতা
কমিশনের এই কড়াকড়ির ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর উচ্ছ্বাসে কিছুটা লাগাম পড়লেও, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার মাধ্যমে মূলত হিংসার উৎসকেই বন্ধ করতে চাইছে কমিশন। এখন দেখার, ফল ঘোষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনের এই নির্দেশিকা কতটা পালন করে।