বঙ্গে ১৫ বছরের শাসনের অবসান, মসনদে পরিবর্তনের হাওয়ায় তৃণমূলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে ৫ কারণ

কলকাতা, ৪ মে ২০২৬: দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে প্রথমবারের মতো নবান্ন দখলের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বেলা গড়াতেই দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ১৯০টিরও বেশি আসনে লিড বজায় রেখেছে, যেখানে তৃণমূল থমকে আছে ১০০-র নিচে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক দশকরেরও বেশি সময় ধরে চলা ‘মমতা ম্যাজিক’ এবার ফিকে হতে শুরু করেছে।
ভোটের মেরুকরণ ও অকেজো দলীয় মেশিনারি
এবারের নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে তৃণমূলের চিরাচরিত ‘ভোট মেশিনারি’ অচল হওয়াকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, তৃণমূল ছাপ্পা ও পেশিশক্তির জোরে জয়লাভ করে। তবে এবার নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন তৎপরতা এবং বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সেই পরিচিত কৌশল কার্যকর হয়নি। অন্যদিকে, মেরুকরণের রাজনীতি অত্যন্ত প্রবল হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট দাবি করেছেন যে, হিন্দু ও মুসলিম ভোটের স্পষ্ট বিভাজন এবার সরাসরি ইভিএমে প্রতিফলিত হয়েছে, যা কার্যত বিজেপির পাল্লা ভারী করেছে।
তালিকা থেকে নাম বাদ ও প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া
নির্বাচনের ঠিক আগেই ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেলেও প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। নির্বাচনী ফলাফল বলছে, এই ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়া শাসকদলের ভোটব্যাংকে বড়সড় আঘাত হেনেছে। এর পাশাপাশি, টানা ১৫ বছরের শাসনে সারদা, নারদা ও নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক কেলেঙ্কারি এবং কর্মসংস্থানের অভাব সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
অন্তর্দ্বন্দ্ব ও রেকর্ড ভোটদানের প্রভাব
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং পুরনো কর্মীদের অবজ্ঞা করে নতুনের দাপট দলের নিচুতলায় বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে। ক্ষুব্ধ কর্মীদের একাংশ এবার পরোক্ষভাবে দলের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া, এবার রাজ্যে ৯৩ শতাংশেরও বেশি রেকর্ড ভোটদান হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ ভোটদান আসলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এক নীরব জনবিস্ফোরণ। পরিবর্তনের এই হাওয়ায় রাজ্যে শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছে সাধারণ মানুষ, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনী ফলাফলে।