শুভেন্দুর দাপটে পূর্ব মেদিনীপুরে ‘ওয়াশ আউট’ তৃণমূল! ১৬-০ ব্যবধানে এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন মমতা

পূর্ব মেদিনীপুর—যে জেলা একসময় বাংলার মসনদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসার পথ প্রশস্ত করেছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই জেলাই মুখ ফিরিয়ে নিল তৃণমূলের থেকে। গণনার যা ট্রেন্ড, তাতে জেলার ১৬টি বিধানসভা আসনের প্রতিটিতেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এখনও পর্যন্ত একটি আসনেও খাতা খুলতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই পূর্ব মেদিনীপুরেই এবার কার্যত পতন নিশ্চিত হল তৃণমূলের।
শুভেন্দুর গড়ে গেরুয়া সুনামি
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় এবার ঘাসফুলকে মাথা তুলতে দেয়নি বিজেপি। প্রতিটি কেন্দ্রেই কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত রণকৌশল এবং অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব যে জেলায় এখনও অটুট, আজকের ফলাফল তা ফের প্রমাণ করল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ একে ‘সম্মানের লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যেখানে একক আধিপত্য কায়েম করে শেষ হাসি হাসলেন শুভেন্দু অধিকারীই।
উত্থান থেকে পতন: এক বৃত্তের সমাপ্তি
২০০৭-০৮ সালে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি আন্দোলনের হাত ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান শুরু হয়েছিল এই পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি থেকেই। ২০১১ সালে সেই আন্দোলনের আবেগই তাঁকে নবান্নে পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু পনেরো বছর পর ২০২৬ সালে এসে সেই জেলা থেকেই তৃণমূলের ‘শূন্য’ হাতে ফেরা এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যে মাটি থেকে উত্থান, সেই মাটিতেই পতনের এই বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার সাক্ষী থাকল তামাম বাংলা।
শূন্য হাতেই ফিরছে জোড়াফুল
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে পটাশপুর, কাঁথি থেকে এগরা—সর্বত্রই এখন গেরুয়া আবিরের দাপট। তৃণমূলের তাবড় তাবড় প্রার্থীরাও বিজেপির প্রার্থীদের সামনে দাঁড়াতে পারছেন না। গণনার বাকি রাউন্ডগুলোতে অলৌকিক কিছু না ঘটলে, এই জেলায় তৃণমূলের খাতা খোলার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘ক্লিন সুইপ’ রাজ্য রাজনীতিতে কেবল তাঁর উচ্চতাই বাড়াল না, বরং মমতার রাজনৈতিক জীবনে এক বড়সড় ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।