মমতাকে হারিয়ে ভবানীপুরেও জয়ী শুভেন্দু, এবার কি বাংলার সিংহাসনে ‘জায়ান্ট কিলার’?

একুশের নন্দীগ্রামের পর ছাব্বিশের ভবানীপুর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের গড়েই হারিয়ে বাংলার রাজনীতিতে কার্যত ইতিহাস গড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে শুধুমাত্র নিজের কেন্দ্র নয়, খাস কলকাতায় গিয়ে তৃণমূল নেত্রীকে ১৫ হাজার ৩০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি। টানটান উত্তেজনার ২০ রাউন্ড গণনা শেষে এই জয়ের ফলে বিরোধী দলনেতার মুকুটে যেমন নতুন পালক যুক্ত হলো, তেমনই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
ভবানীপুরের ঘরে ঢুকে চ্যালেঞ্জ জয়
রাজনীতিবিদদের মতে, ভবানীপুর ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ‘ঘর’। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জয় ছিনিয়ে নেওয়া শুভেন্দুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক বিশাল মাইলফলক। গণনার শুরুর দিকে তৃণমূল নেত্রী লিড নিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর কষে দেওয়া হিসেবই মিলে যায়। জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু এই জয়কে ‘হিন্দুত্বের জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ সমাজের সমর্থনই তাঁকে এই ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম আসনেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী পদে কি তবে শুভেন্দুই?
টানা দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি লড়াইয়ে পরাজিত করার পর বিজেপির অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে আগামীর সমীকরণ। গত পাঁচ বছরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই এবং সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ তাঁকে দলের স্বাভাবিক নেতায় পরিণত করেছে। বিশেষ করে ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ তৈরি হওয়ার পর গেরুয়া শিবিরের একাংশ মনে করছে, লড়াইয়ের পুরস্কার হিসেবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—দুই কেন্দ্রে জয়ী হয়ে শুভেন্দু অধিকারীই কি বসতে চলেছেন মহাকরণের শীর্ষাসনে?