আসানসোলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলল বন্ধ দুর্গা মন্দির, খুশির জোয়ার বস্তিন বাজারে

আসানসোলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলল বন্ধ দুর্গা মন্দির, খুশির জোয়ার বস্তিন বাজারে

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে আসানসোলে এক বিশেষ ঘটনার সাক্ষী থাকলেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সাধারণ ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে শহরের বস্তিন বাজার এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী দুর্গামাতা চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মন্দির। বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বিপুল জয়ের পর এই মন্দির পুনরায় চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে এখন উৎসবের মেজাজ।

প্রতিশ্রুতি পূরণ ও মন্দিরের দ্বারোদঘাটন

আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, জয়ী হলে তিনি এই মন্দিরটি সারা বছর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করবেন। নির্বাচনে জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই কৃষ্ণেন্দু সরাসরি বস্তিন বাজারের ওই মন্দিরে পৌঁছান এবং ঐতিহাসিকভাবে তালাবন্ধ থাকা মন্দিরের দ্বার খুলে দেন। মন্দির খোলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে ভক্তরা সেখানে ভিড় জমান এবং পুজো-অર્ચনার মাধ্যমে জয়ের আনন্দ উদযাপন করেন।

দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাব

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইনি ও প্রশাসনিক নানাবিধ বিতর্কের জেরে মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। বছরে শুধুমাত্র দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজার সময় সীমিত সময়ের জন্য এখানে পুজোর অনুমতি মিলত। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মন্দিরটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৯টি আসনেই বিজেপির জয় এবং নির্বাচনের এই ফলাফল আসানসোলের এই ধর্মীয় ও সামাজিক অচলাবস্থা কাটানোর পথে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এটিকে এলাকায় বিজেপির জয়ের একটি বড় প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

শান্তি বজায় রাখার আহ্বান

রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গেলেও আসানসোলের এই মন্দির খোলাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শুভেন্দু অধিকারী দলের কর্মীদের শান্ত থাকার এবং কোনো প্রকার ঝামেলা-অশান্তিতে না জড়ানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন। প্রশাসন ও দলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে। বর্তমানে মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের ভিড় এবং স্থানীয়দের উল্লাস নতুন এক সামাজিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *