বাংলায় শুরু নতুন অধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে আজই কলকাতায় আসছেন রাজনাথ সিং

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর রাজবদল ঘটেছে রাজ্যে। বিধানসভা ভোটের ফলাফলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এখন সকলের নজর নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার দিকে। এই গুরুদায়িত্ব পালনে এবং মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজই বিশেষ সফরে কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে একটি ক্যাবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকার গঠন নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠক শেষ করেই রাজনাথ সিং কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন। তার সাথে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরও কলকাতায় আসার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতায় এসে রাজনাথ সিং নবনির্বাচিত বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এরপর সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তিনি।
দৌড়ে এগিয়ে ভূমিপুত্ররাই
বিজেপি আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে কোনো বাঙালি ভূমিপুত্রকেই বাংলার প্রশাসনিক প্রধান করা হবে। এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। তবে শুভেন্দুর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য এবং স্বপন দাশগুপ্তর নাম নিয়েও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে। যদিও শমীক ভট্টাচার্য ভোটে না দাঁড়ানোয় তাকে বেছে নেওয়া হলে ছয় মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনে জিতে আসার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।
বাংলায় এই ক্ষমতার পালাবদল রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক সমীকরণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির হাইকম্যান্ড শেষ পর্যন্ত কার গলায় জয়ের মালা পরায় এবং রাজনাথ সিংয়ের এই সফর শেষে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার নাম ঘোষণা করা হয়।