পাঁচ দশক পর বাংলায় ফিরল ডবল ইঞ্জিন সরকার, কংগ্রেসের ইতিহাস ছুঁল বিজেপি

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অপেক্ষা শেষে পশ্চিমবঙ্গ দেখল ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রত্যাবর্তন। বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ঘাসফুল শিবিরকে সরিয়ে মসনদ দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৯৭২ সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের জমানার পর এই প্রথম কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় স্তরেই একই রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো বাংলায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ৫০ বছরের ব্যবধান
বাংলার রাজনীতিতে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ধারণাটি নতুন নয়, তবে তা বহু বছর অধরা ছিল। ১৯৭২ সালে কেন্দ্রে যখন ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার, তখন পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের প্রশাসনিক রসায়ন ভারতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত চর্চিত বিষয় ছিল। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাল বিজেপি। ছাব্বিশের পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার জনতা এবার পদ্ম শিবিরের হাতেই শাসনভার তুলে দিয়েছে।
পরিবর্তনের কারণ ও আগামীর প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়ের মূলে রয়েছে মোদি-শাহ জুটির উন্নয়নমুখী প্রচার এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফলের প্রতিশ্রুতি। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার যে আশ্বাস বিজেপি দিয়েছিল, ভোটারদের বড় অংশ তাতে আস্থা রেখেছে। এর আগে বিহারে এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের পর থেকেই বাংলায় গেরুয়া শিবিরের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল।
এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহ কেটে গিয়ে প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ এক নতুন দিশা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পাঁচ দশক আগের কংগ্রেস জমানার মতো এই নতুন জুটিও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।