ভবানীপুরে পরাজিত মমতা, অরাজক শাসকের ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া বার্তা অমিত শাহের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দেশ। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর আসনেই পরাজিত হয়েছেন। রাজ্যের এই পালাবদল এবং খাস ভবানীপুরে বিজেপির জয়কে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার মধ্যরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি ভোটারদের কুর্নিশ জানিয়ে দাবি করেন, একজন অরাজক শাসকের ভবিষ্যৎ কী হয়, এই রায় তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
পতন ও পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি, লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে রাজ্যবাসীর পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ব্যালট বক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে বারবার ‘ভাতা’র রাজনীতির বিপরীতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সফল হয়েছে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। অন্যদিকে, মাত্র ৮১টি আসন পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত পর্যুদস্ত। উত্তরবঙ্গে তৃণমূল ধুয়ে-মুছে যাওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক পুরোনো ঘাঁটিও হারিয়েছে তারা।
লুটের অভিযোগ ও মমতার প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন আসলে বিজেপির হয়ে কাজ করেছে। গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশনের যোগসাজশে অন্তত ১০০টি আসন ‘লুট’ করেছে বিজেপি। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতে, এই রায় আসলে জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন। ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় রাজ্য রাজনীতির গতিপথ আমূল বদলে দিয়েছে, যা আগামী দিনে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।