পালাবদলের পরদিনই কালীঘাটে সস্ত্রীক রাজ্যপাল, প্রার্থনা করলেন বাংলার সমৃদ্ধির জন্য

পালাবদলের পরদিনই কালীঘাটে সস্ত্রীক রাজ্যপাল, প্রার্থনা করলেন বাংলার সমৃদ্ধির জন্য

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ঠিক চব্বিশ ঘণ্টার মাথায় সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী লক্ষ্মী রবিকে সঙ্গে নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে দেবী দর্শনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও রাজ্যের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা জানান রাজ্যপাল। লোকভবনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সফরের ছবি শেয়ার করে রাজ্যবাসীর প্রতি রাজ্যপালের এই শুভকামনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যপালের এই মন্দির দর্শনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যপাল। বিশেষ করে গত পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে জিডিপির হারের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের তৎকালীন পরিস্থিতিকে ‘করুণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে উন্নয়নের স্বার্থে ‘পরিবর্তনের অংশ’ হওয়ার যে ডাক তিনি দিয়েছিলেন, ভোটের ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটার পর এই প্রার্থনা বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

সংঘাতের আবহ ও বর্তমান স্থিতি

নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন রাজ্যপালের বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজভবন ও তৎকালীন শাসকদলের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইসলামপুরের সভা থেকে রাজ্যপালের বার্তার পাল্টা সমালোচনা করেছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই বিতর্কের অধ্যায় সরিয়ে রেখে নতুন সরকার গঠনের আবহে রাজ্যপালের এই আধ্যাত্মিক সফর ও জনকল্যাণের প্রার্থনা রাজ্যের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোট পরবর্তী হিংসা রোধ এবং রাজ্যের আর্থিক গৌরব পুনরুদ্ধারের যে বার্তা রাজ্যপাল আগে দিয়েছিলেন, মন্দির দর্শনের মাধ্যমে তিনি সেই উন্নয়নের পথেই অবিচল থাকার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *