নবান্নে পালাবদল, দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বিজেপি!

দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে নবান্নের দখল নিল গেরুয়া শিবির। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত জেলাগুলোতেও এবার ব্যাপক ধস নেমেছে। আজ ৫ মে সকাল থেকেই এই জয়ের আবহে কলকাতা থেকে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে।
বিজেপির বিপুল জয়ের মানচিত্র
জেলাওয়ারি ফলাফলের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গে বিজেপি কার্যত একাধিপত্য কায়েম করেছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির মতো জেলাগুলোতে তৃণমূল প্রায় নিশ্চিহ্ন। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলাতেও বিজেপি ও তার জোটসঙ্গীরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, জঙ্গলমহল ও রাঢ়বঙ্গেও ফুটেছে পদ্ম। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার সবকটি আসন পকেটে পুরেছে গেরুয়া শিবির। বর্ধমান ও হুগলিতেও তৃণমূলের ফল অত্যন্ত বিপর্যয়কর; যেখানে হুগলির ১৮টি আসনের মধ্যে ১৬টিই জিতেছে বিজেপি। এমনকি খোদ কলকাতা শহরের ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জিতে বিজেপি তাদের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।
তৃণমূলের গড় ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এত বড় পরাজয়ের মধ্যেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূল নিজেদের আধিপত্য কিছুটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে তারা ৩০টির মধ্যে ১৯টি আসন জিতেছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে কড়া টক্কর চললেও শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূল কার্যত সাফ হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং বিজেপির সুসংগঠিত প্রচারই এই অভাবনীয় পরিবর্তনের মূল কারণ।
নতুন সরকারের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা
এই জয়ের ফলে বাংলার শাসনক্ষমতায় এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। নির্বাচনের এই ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচনার বিষয় হলো—কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই তিন হেভিওয়েট নাম নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। নতুন সরকার গঠন হলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং উন্নয়নমূলক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত নতুন কাণ্ডারির শপথ গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।