আমরা হারিনি, কেন পদত্যাগ করব? ভোট লুটের অভিযোগে নজিরবিহীন জেদ মমতার

আমরা হারিনি, কেন পদত্যাগ করব? ভোট লুটের অভিযোগে নজিরবিহীন জেদ মমতার

কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেলেও মমতার দাবি—তৃণমূল হারেনি, তাদের জয় ‘লুট’ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকেই সরাসরি ‘ভিলেন’ তকমা দিয়ে ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি।

ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই নেই

নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?” তাঁর স্পষ্ট দাবি, তাঁরা লোক ভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন না কারণ এই জয় জনমতের নয়, বরং কারচুপির ফসল।

নির্বাচন কমিশনই আসল ‘ভিলেন’

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে ‘কালো ইতিহাসের কারিগর’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ:

  • আসন লুট: কমিশনের প্রত্যক্ষ সাহায্যে ১০০-র বেশি আসন তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
  • বিজেপি-কমিশন আঁতাত: মমতার দাবি, ভোটের আগে সব জায়গায় পরিকল্পিতভাবে রেড করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অফিসারদের বদলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে।”
  • শীর্ষ নেতৃত্বের যোগসূত্র: এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী।

রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি

পরাজয় মেনে নেওয়ার বদলে লড়াইয়ের ময়দানে ফেরার বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াব।” তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়করা দলের পাশেই আছেন এবং তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই ‘প্রতিষ্ঠানিক চুরির’ মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েটরা

এদিন কালীঘাটের সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। নেত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে তাঁরাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তৃণমূল নেত্রীর এই অবস্থানের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। একদিকে বিজেপি যখন সরকার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মমতার এই ‘ইস্তফা না দেওয়ার’ জেদ এক নতুন সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *