মুর্শিদাবাদে বিজেপির উত্থানে নিজের ‘ক্রেডিট’ দাবি হুমায়ুনের, অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির!

মুর্শিদাবাদে বিজেপির উত্থানে নিজের ‘ক্রেডিট’ দাবি হুমায়ুনের, অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এক লহমায় বদলে গিয়েছে। এক সময়ের ‘কংগ্রেসের গড়’ এবং পরবর্তীতে ‘তৃণমূলের দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এবার থাবা বসিয়েছে বিজেপি। আর এই অভাবনীয় পালাবদলের নেপথ্যে পরোক্ষ কারিগর হিসেবে নিজেকেই দাবি করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ বক্তব্য, তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২০ থেকে ৯-এ নেমে আসা এবং বিজেপির ৮টি আসন পাওয়ার পেছনে তাঁর রাজনৈতিক চালই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

বিজেপির উত্থান ও হুমায়ুনের দাবি

একুশের বিধানসভায় জেলায় মাত্র ২টি আসন পাওয়া বিজেপি এবার এক লাফে ৮টি আসন দখল করেছে। হুমায়ুন কবীরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ এবং তাঁর নিজস্ব কৌশলের কারণেই বিজেপির এই জয়যাত্রা সুগম হয়েছে। নিজের নতুন দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নিয়ে রেজিনগর ও নওদা—উভয় কেন্দ্রেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন হুমায়ুন। বিশেষ করে রেজিনগরে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষকেই বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক আধিপত্যের জানান দিয়েছেন। তাঁর মতে, ২০২১ সালে তৃণমূলকে ২০টি আসন জিতিয়ে দিলেও প্রতিদানে তিনি কেবল অপমান পেয়েছেন, যার ‘মাশুল’ দিতে হলো শাসক দলকে।

অস্বস্তিতে বিজেপি ও ভবিষ্যতের সমীকরণ

হুমায়ুন কবীর কৃতিত্ব দাবি করলেও মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর এই দাবিকে পাত্তাই দিচ্ছে না। জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডলের মতে, হুমায়ুনের মতো নেতার সমর্থন বিজেপি কখনও নেয়নি এবং নেবেও না। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর নিজের জয়ের পেছনে পরিবারের ওপর তৃণমূল সরকারের ‘আক্রমণ’ এবং পুলিশি হেনস্থাকেই প্রধান প্রভাবক হিসেবে দেখছেন। আগামী দিনে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিয়ে উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে দাঁড় করানোর এবং নিজে বহরমপুর থেকে লোকসভা লড়াইয়ের পরিকল্পনা করছেন তিনি। জেলার এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জন্য যে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *