‘বিজেপিকে বলুন বিচার দিতে!’ জলহাটিতে জয়ের পর ‘বামপন্থী’ অভয়া মঞ্চের শুভেচ্ছায় লুকিয়ে কোন ইঙ্গিত?

‘বিজেপিকে বলুন বিচার দিতে!’ পানিহাটিতে জয়ের পর ‘বামপন্থী’ অভয়া মঞ্চের শুভেচ্ছায় লুকিয়ে কোন ইঙ্গিত?

জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। আর জি কর হাসপাতালে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা ও বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের জয় এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে এই জয়োল্লাসের মধ্যেই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ‘অভয়া মঞ্চ’-এর শুভেচ্ছা বার্তা এবং সেই সাথে ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনী লড়াই ও অভয়া মঞ্চের অবস্থান

আর জি কর কাণ্ডের পর এটিই ছিল প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। জলহাটির ত্রিমুখী লড়াইয়ে একদিকে ছিলেন তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ, অন্যদিকে সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত এবং বিজেপির রত্না দেবনাথ। নির্বাচনের আগে অভয়া মঞ্চ সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও, তাদের নিঃশব্দ সমর্থন ছিল কলতানের দিকেই। প্রচারপর্বে তারা রত্না দেবনাথের রাজনৈতিক দল নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেছিল, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়ার ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। কিন্তু সোমবার ইভিএম খুলতেই দেখা যায়, বাম প্রার্থীকে কয়েক যোজন পেছনে ফেলে জয়ের মুকুট পরেছেন রত্না দেবনাথ।

শুভেচ্ছার আড়ালে বিচারের দাবি

রত্না দেবনাথের জয়ের পর অভয়া মঞ্চের আহ্বায়ক তমোনাশ চৌধুরি তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে এই শুভেচ্ছার সাথে জুড়ে দিয়েছেন এক জোরালো শর্ত। মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “এবার বিজেপিকে বলুন মেয়ের হত্যার বিচার দিতে।” অভয়া মঞ্চ মনে করে, অতীতে উন্নাও বা হাথরসের মতো ঘটনায় বিজেপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তাই রত্না দেবনাথ যে দলে যোগ দিয়েছেন, সেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবার চূড়ান্ত বিচার ছিনিয়ে আনাই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তৃণমূলের পরাজয় ও ভবিষ্যতের প্রভাব

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের পরাজয়কে ‘ন্যায়বিচারের আন্দোলনের জয়’ হিসেবে দেখছে অভয়া মঞ্চ। দীর্ঘ এক বছর ধরে চলা প্রতিবাদের ফল এই নির্বাচনী ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অভয়া মঞ্চের মতে, সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, রত্না দেবনাথ বিধায়ক হিসেবে জয়ী হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থা বা তাঁর নিজের দলের মাধ্যমে আর জি কর কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে কতটা ত্বরান্বিত করতে পারেন। এই জয় যেমন এক মায়ের ব্যক্তিগত জেদ ও লড়াইয়ের স্বীকৃতি, তেমনই আগামীর জন্য এটি ন্যায়বিচারের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষাও বটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *