বেলেঘাটায় কর্মী খুনে ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ ষড়যন্ত্রের বিস্ফোরক দাবি কুণালের

বেলেঘাটায় কর্মী খুনে ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ ষড়যন্ত্রের বিস্ফোরক দাবি কুণালের

নির্বাচনী ফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার বেলেঘাটা। সোমবার সন্ধ্যায় ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক নামে এক তৃণমূল কর্মীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পনামাফিক তাঁকে বাইরে বের করে এনে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার এনআরএস হাসপাতালে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

বেলেঘাটার নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত সন্ত্রাস। স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মীর সহায়তায় এলাকায় বিপুল পরিমাণ বহিরাগত ঢোকানো হয়েছে এবং তারাই এই রক্তক্ষয়ী কাণ্ড ঘটাচ্ছে। বিধায়কের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উস্কানিতেই ভোটের আগে থেকে অশান্তির ছক কষা হয়েছিল, যার মর্মান্তিক পরিণতি এই হত্যাকাণ্ড।

হিংসার নেপথ্যে বহিরাগত তত্ত্ব

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বেলেঘাটার বিভিন্ন এলাকায় পার্টি অফিস ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের অধিকাংশকেই স্থানীয় বাসিন্দারা চেনেন না। কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি হাই কমান্ড মুখে শান্তির কথা বললেও তলে তলে বহিরাগতদের ব্যবহার করে গণ্ডগোল পাকানোর ‘ক্যামোফ্লেজ’ বা ছদ্মবেশ ধারণ করেছে। স্থানীয় কিছু বিজেপি কর্মীও এই পরিকল্পিত হামলার কথা গোপনে স্বীকার করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই খুনের ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশেহারা বিশ্বজিতের পরিবার। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এই খুনের পেছনে কাদের ফোন কল বা যোগসূত্র ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার প্রভাবে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *