ভবানীপুর গণনায় কারচুপির অভিযোগ ওড়াল কমিশন, মমতার দাবিকে ভিত্তিহীন তকমা

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনায় অনিয়ম ও কারচুপির যে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছিলেন, তা সরাসরি খারিজ করে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) এক রিপোর্টে জানিয়েছেন, গণনার দিন তৃণমূল প্রার্থীর তোলা অভিযোগগুলো কেবল ভিত্তিহীনই নয়, বরং সম্পূর্ণ অসত্য। কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।
কমিশনের কড়া রিপোর্ট ও সিসিটিভি বিতর্ক
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। তবে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তাঁর রিপোর্টে স্পষ্ট করেছেন যে, সিসিটিভি এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং সারাক্ষণ কড়া নজরদারি জারি ছিল। ধাক্কাধাক্কি বা হেনস্থার অভিযোগটিকেও ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সমস্ত নিয়মবিধি ও আইনি নির্দেশিকা মেনেই প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে কারচুপির কোনো অবকাশ ছিল না।
ইভিএম বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাব
ভোটযন্ত্র বা ইভিএম-এর চার্জ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা প্রশ্নেরও পরোক্ষ জবাব মিলেছে প্রশাসনিক ব্যাখ্যায়। তিনি দাবি করেছিলেন, ভোট গ্রহণ শেষে দীর্ঘ সময় পরেও যন্ত্রের চার্জ ৮০-৮৫ শতাংশ থাকা অস্বাভাবিক। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনমতের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সমস্ত আইনি রক্ষাকবচ মজুত ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য রাজনীতির উত্তাল পরিস্থিতিতে কমিশনের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন তৃণমূল নেত্রী এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিশনকে ‘খলনায়ক’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন, অন্যদিকে কমিশনের এই ক্লিনচিট প্রশাসনিক ও আইনি লড়াইকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।