ক্ষমতায় এসেই ‘দাদাগিরি’ বন্ধের হুঁশিয়ারি! অশান্তি রুখতে নিজের দলকেই কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

ক্ষমতায় এসেই ‘দাদাগিরি’ বন্ধের হুঁশিয়ারি! অশান্তি রুখতে নিজের দলকেই কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে বাংলায় প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছেছে বিজেপি। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তবে এই আনন্দ-উল্লাসের মধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি, ভাঙচুর ও তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিজয়োল্লাসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কড়া অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

বিশৃঙ্খলায় জিরো টলারেন্স এবং দলীয় শৃঙ্খলা

ক্ষমতায় আসার পর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিজয়োল্লাসের নামে কোনো ধরনের হিংসা বা ‘দাদাগিরি’ বরদাস্ত করা হবে না। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে যদি কেউ তৃণমূলের কার্যালয় আক্রমণ করে কিংবা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের প্রতি অশালীন আচরণ করে, তবে তাকে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। মূলত গত কয়েক বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার যে তকমা বাংলার গায়ে লেগেছে, তা মুছে ফেলতেই সভাপতির এই কঠোর অবস্থান বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রশাসনের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে অটোস্ট্যান্ড, টোটোস্ট্যান্ড বা কলকারখানায় যারা তোলাবাজি করতে চাইবে, তাদের যেন দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রতিহিংসার যে ধারা চলে আসছে, বিজেপি নেতৃত্ব তা ভাঙতে চাইছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই বার্তায় ‘বদল নয়, বদলানো’র একটি স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যদি এই অবস্থান কার্যকর হয়, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত আতঙ্ক দূর হতে পারে এবং রাজ্যে একটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়, সেটিই এখন নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *