এক ছাতার তলায় গোর্খা ভোট, পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের অপ্রতিরোধ্য বিমল গুরুং!

দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতিতে আবারও নিজের একাধিপত্য প্রমাণ করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। একসময় রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও, নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসতেই দেখা গেল পাহাড়ের ‘কিং মেকার’ হিসেবে তাঁর আসনটি এখনও অটুট। পাহাড়ের গোর্খা ভোটকে এক ছাতার তলায় এনে বিজেপিকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসন উপহার দিয়ে গুরুং বুঝিয়ে দিলেন, সুবাস ঘিসিং-পরবর্তী যুগে তিনিই পাহাড়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক।
সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হতেই দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং জুড়ে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। সিংমারিতে দলীয় কার্যালয়ে বসে গুরুং নিজে বিনয়ী থাকলেও, পাহাড়ের চারটি আসনে বিজেপির জয় তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বকে নতুন করে শক্তিশালী করল। বিশেষ করে দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পংয়ের পাশাপাশি ডুয়ার্সের মাদারিহাট আসনেও তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করে তিনি নিজের প্রভাবের পরিধি স্পষ্ট করেছেন।
তৃণমূলের বিরোধিতা ও বিজেপির জয়যাত্রা
বিমল গুরুংয়ের মতে, রাজ্যে বাড়তে থাকা বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ইভিএমে জবাব দিয়েছে। নিজে প্রার্থী না হয়েও রাজু বিস্তার মতো প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চালিয়ে লোকসভা নির্বাচনে যে চমক তিনি দিয়েছিলেন, বিধানসভাতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন। পাহাড়ের অন্দরে জিএনএলএফ-এর প্রভাব কাটিয়ে এককভাবে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জনভিত্তিকে বিজেপির অনুকূলে ব্যবহার করাই ছিল তাঁর মূল কৌশল।
পাহাড়ের সমীকরণে গুরুং ফ্যাক্টর
এই জয়ের ফলে বিমল গুরুংয়ের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হলো। মাদারিহাটে নিজের পছন্দের প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বু থেকে শুরু করে ভরত ছেত্রীদের জিতিয়ে আনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুংয়ের এই সাফল্য পাহাড়ের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবিকে আরও জোরালো করবে। একইসঙ্গে, রাজ্য রাজনীতির মূল স্রোতে পাহাড়ের সমস্যাগুলো নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। সন্ন্যাস নেওয়ার যে চ্যালেঞ্জ তিনি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন, শেষ হাসি হেসে তিনি প্রমাণ করলেন যে পাহাড়ের রাশ এখনও তাঁর হাতেই বন্দি।