বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবিতে কৃষ্ণনগরে বিএলওদের তুমুল বিক্ষোভ

বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবিতে কৃষ্ণনগরে বিএলওদের তুমুল বিক্ষোভ

নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে দিনরাত এক করলেও মেলেনি পারিশ্রমিক। এই বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখালেন চারশোরও বেশি বুথ লেভেল আধিকারিক বা বিএলও (BLO)। তাঁদের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও সরকার নির্ধারিত প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে তাঁদের।

বঞ্চনার অভিযোগ ও ক্ষোভ

বিক্ষোভরত বিএলওদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SRER) এবং পরবর্তী নির্বাচন সামলাতে তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি, শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোটের দিন ভোটার স্লিপ বিলি—সব ক্ষেত্রেই কমিশনের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন তাঁরা। অথচ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি প্রাপ্য টাকা। এমনকি নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের (Training) জন্য যে যাতায়াত ভাতা বা সাম্মানিক বরাদ্দ থাকে, তাও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন কর্মীরা।

বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, নির্বাচনের সময় তাঁদের থাকা-খাওয়ার মতো ন্যূনতম সরকারি সুবিধাও প্রদান করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও উদাসীনতার বিরুদ্ধেই এদিন সংহতি প্রকাশ করে বিডিও অফিসের সামনে সরব হন তাঁরা।

বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

এদিন বিক্ষোভকারীরা বিডিও-র সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁর দেখা পাননি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেই সময় সংশ্লিষ্ট আধিকারিক দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিএলওদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত বকেয়া পারিশ্রমিক মেটানো না হলে আগামী দিনে কাজ বন্ধ করে দিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

প্রভাব ও কারণ

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রশাসনিক স্তরে তহবিল বরাদ্দে জটিলতা বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এই পারিশ্রমিক আটকে থাকতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ আগামী দিনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ বা অন্যান্য নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল স্তরের এই কর্মীরাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রধান স্তম্ভ হওয়ায়, তাঁদের ক্ষোভ প্রশমন করা প্রশাসনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *