অরূপের হারের পর বিস্ফোরক শতদ্রু, মেসি-কাণ্ডে এবার সব ফাঁস করার হুঁশিয়ারি

গত বছরের ডিসেম্বরে লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনার জল এবার বহুদূর গড়াতে চলেছে। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নির্বাচনী হারের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ওই সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে তিনি জানিয়েছেন, নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার খাতিরেই এতদিন মুখ খোলেননি তিনি। এবার সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আনার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লিখেছেন, “তোমার খেলা শেষ, এবার আমার খেলা শুরু।”
নিগ্রহ ও হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
শতদ্রু দত্তর দাবি, মেসি-কাণ্ডের সময় তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যুবভারতীতে প্রবেশের বিশেষ কার্ডের জোগান দিতে তাঁর সংস্থাকে প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজি না হওয়ায় একটি ঘরে আটকে রেখে তাঁকে ভয় দেখানো হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। শতদ্রু জানান, জেল থেকে জামিনে মুক্তির পরেও তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত টার্গেট করা হচ্ছিল। মুখ খুললে পরিবারকে ‘শেষ’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেই তিনি এতদিন চুপ ছিলেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপট বদলাতেই তিনি ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান চলাকালীন বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে পুলিশ শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করেছিল। দর্শকদের অভিযোগ ছিল, হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও আয়োজক ও প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীদের ভিড়ের কারণে তাঁরা মেসিকে দেখতে পাননি। সেই সময় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শতদ্রু ছিলেন অভিযুক্তের কাঠগড়ায়। বর্তমানে অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় এই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। শতদ্রুর এই নতুন অভিযোগের ফলে মেসি-কাণ্ডের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।