ভারতে ধৃত বিদেশিদের সিংহভাগই বাংলাদেশি, এনসিআরবি রিপোর্টে উদ্বেগজনক তথ্য

ভারতে ধৃত বিদেশিদের সিংহভাগই বাংলাদেশি, এনসিআরবি রিপোর্টে উদ্বেগজনক তথ্য

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিদেশি নাগরিকদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এক বছরে ভারতে অপরাধের অভিযোগে মোট ৩০৯১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রিপোর্টের প্রধান দিকগুলি:

  • তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ: ২০২৪ সালে ভারতে বিভিন্ন অপরাধে ধৃত মোট ৪৭৯৪ জন বিদেশির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি (৩০৯১ জন) বাংলাদেশি। বাংলাদেশিদের পর এই তালিকায় রয়েছে নাইজেরিয়া (৫০৯ জন), নেপাল (৪৭৬ জন) ও মায়ানমারের (২৪৫ জন) নাগরিকরা।
  • পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি: রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশিদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। গত এক বছরে রাজ্যে ৯৯২টি অপরাধের মামলায় বিদেশি নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছে।
  • অপরাধের ধরন: বিদেশি নাগরিকদের মূলত জালিয়াতি (১২৭টি মামলা), প্রতারণা (৭৮টি মামলা) এবং খুনের (৪৫টি মামলা) অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারি হয়েছে ‘বিদেশি নাগরিক আইন’ ও ‘পাসপোর্ট আইন’ লঙ্ঘনের কারণে। শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধেই ১৬৭৬টি মামলা রুজু হয়েছে বিদেশি নাগরিক আইনের অধীনে।
  • লিঙ্গবৈচিত্র্য: মোট ধৃতদের মধ্যে ৯৪৪ জন বিদেশি মহিলা এবং ১১ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি রয়েছেন।

অনুপ্রবেশ ও জাল নথির বিতর্ক:

এই রিপোর্টটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্ব বারবারই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর দাবিতে সরব হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন যে, কলকাতা সংলগ্ন মধ্যমগ্রাম ও বারাসাত অঞ্চলগুলি জাল নথিপত্র তৈরির ‘হাব’ হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধৃত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ ভুয়ো ভোটার কার্ড ও পরিচয়পত্র এই এলাকাগুলি থেকেই তৈরি করা হয়।

প্রশাসনিক মহলের মতে, এনসিআরবি-র এই পরিসংখ্যান সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বিদেশি নাগরিকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আরও কড়াকড়ির প্রয়োজনীয়তাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *