গুগলের ১২৫ কোটির ‘বাগ বাউন্টি’ কোডিং জানলেই রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার সুযোগ!

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল তাদের সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশনের নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এক অভাবনীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তার ভাষায় একে বলা হয় ‘বাগ বাউন্টি’ (Bug Bounty) প্রোগ্রাম। চলতি বছরে গুগল এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১২৫ কোটি টাকারও বেশি) বরাদ্দ করেছে, যা প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কী এই ‘বাগ বাউন্টি’ চ্যালেঞ্জ?
এটি মূলত একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ গুগলের সিস্টেমের কোনো ত্রুটি বা লুপহোল (যাকে কারিগরি ভাষায় ‘বাগ’ বলা হয়) খুঁজে বের করতে পারলে বড় অঙ্কের পুরস্কার পান।
- উদ্দেশ্য: সাইবার অপরাধীরা কোনো দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর আগেই যাতে এথিক্যাল হ্যাকাররা তা শনাক্ত করতে পারেন।
- পুরস্কারের মাত্রা: একটি ছোট ত্রুটি খুঁজে পেলেও কয়েক লক্ষ টাকা জেতার সুযোগ থাকে। তবে বড় বা ‘ক্রিটিক্যাল’ কোনো ত্রুটি (যেমন ব্যবহারকারীর ডেটা হ্যাক হওয়া) ধরতে পারলে পুরস্কারের অঙ্ক ১ লক্ষ ডলার (প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা) বা তারও বেশি হতে পারে।
কারা অংশ নিতে পারবেন?
এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার জন্য বড় কোনো ডিগ্রি বা নামী কো ম্পা নিতে চাকরির প্রয়োজন নেই।
- যোগ্যতা: কোডিং এবং সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে যেকোনো আইটি শিক্ষার্থী বা গবেষক এতে অংশ নিতে পারেন।
- পরিধি: অ্যান্ড্রয়েড ওএস, গুগল ক্রোম, গুগল ম্যাপস বা ক্লাউড সার্ভিসের পাশাপাশি এবার গুগলের নতুন এআই ‘জেমিনি’ (Gemini)-র সুরক্ষা বলয় ভাঙার চ্যালেঞ্জও দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় তরুণদের জয়জয়কার
গুগলের এই তালিকায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের গবেষক থাকলেও, সংখ্যা এবং সাফল্যের বিচারে ভারতীয় তরুণরা বর্তমানে শীর্ষে রয়েছেন। বিশেষ করে চেন্নাই ও হায়দরাবাদের বেশ কয়েকজন তরুণ গুগলের ‘হল অফ ফেম’-এ জায়গা করে নিয়েছেন।
- সুযোগ: এটি ভারতের আইটি শিক্ষার্থী এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম। চাকরির ধরাবাঁধা মাইনের বাইরে নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং বিপুল অর্থ উপার্জনের এটিই সেরা মাধ্যম।
আপনি কীভাবে শুরু করবেন?
আপনি যদি কোডিংয়ে আগ্রহী হন, তবে গুগলের অফিসিয়াল ‘Vulnerability Reward Program’ (VRP) পোর্টালে গিয়ে বিস্তারিত নিয়মাবলি দেখে নিতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার খুঁজে পাওয়া একটি ছোট সমাধান কোটি কোটি গুগল ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
প্রযুক্তি জগতের এই ‘সোনার খনি’ থেকে নিজের ভাগ্য বদলাতে আপনি কি তৈরি?
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।