বেআব্রু শিক্ষা ব্যবস্থা! ৯৮ হাজার স্কুলে নেই মেয়েদের শৌচাগার

বেআব্রু শিক্ষা ব্যবস্থা! ৯৮ হাজার স্কুলে নেই মেয়েদের শৌচাগার

আর্মস রেসে বিশ্বকে টক্কর দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার ডাক দেওয়া হলেও, দেশের অন্দরে শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকট হয়ে উঠল নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। ‘স্কুল এডুকেশন সিস্টেম ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক এই রিপোর্ট বলছে, আধুনিকতার ছোঁওয়া তো দূর, দেশের হাজার হাজার সরকারি স্কুলে ন্যূনতম পরিষেবাটুকুও অমিল।

পরিকাঠামোর শোচনীয় দশা: শৌচাগার ও পানীয় জলের হাহাকার

নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ৯৮,৫৯২টি স্কুলে ছাত্রীদের জন্য কোনও আলাদা শৌচাগার নেই। এখানেই শেষ নয়, ৬১,৫৪০টি স্কুলে যে শৌচাগারগুলি রয়েছে, সেগুলি একেবারেই ব্যবহারযোগ্য নয়। এছাড়া:

  • প্রায় ১.১৯ লক্ষ স্কুলে আজও বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছায়নি।
  • ৬০ হাজার স্কুলে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই।
  • ১৪ হাজার স্কুলে নেই পানীয় জলের সংযোগ।
  • অর্ধেকের বেশি সরকারি স্কুলে কোনও বিজ্ঞান গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরি নেই।

অবশ্য ইতিবাচক দিক একটাই, কয়েক বছর আগে যেখানে মাত্র ৫৫ শতাংশ স্কুলে বিদ্যুৎ ছিল, বর্তমানে তা ৯১.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

শিক্ষকহীন স্কুল ও শূন্য ছাত্রের ক্লাসরুম

রিপোর্টে আরও একটি উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে। দেশের ১,০৪,১২৫টি স্কুলে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক, যার মধ্যে ৮৯ শতাংশই প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায়। রাজ্যভিত্তিক শিক্ষকশূন্যতার চিত্রটি নিম্নরূপ:

  • বিহার: ২,০৮,৭৮৪টি পদ খালি।
  • ঝাড়খণ্ড: ৮০,৩৪১টি পদ খালি।
  • মধ্যপ্রদেশ: ৪৭,১২২টি পদ খালি।

বিপরীত দিকে, দেশে এমন ৭,৯৯৩টি স্কুল রয়েছে যেখানে কোনও ছাত্রই নেই। পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যাটি ৩,৮১২, যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তেলেঙ্গানাতেও এই সংখ্যা ২,২৪৫।

স্কুলছুটের হার ও শিক্ষায় বরাদ্দ

মাধ্যমিক স্তরে স্কুলছুটের জাতীয় গড় ১১.৫ শতাংশ হলেও, বাংলায় তা প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারেও স্কুলছুটের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। নীতি আয়োগের মতে, ভারত তার জিডিপি-র (GDP) মাত্র ৪.৬ শতাংশ শিক্ষার পিছনে খরচ করে, যা ব্রিটেন বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশের তুলনায় অনেকটাই নগণ্য।

অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় দেশ এগিয়ে চললেও, শিক্ষাক্ষেত্রের এই দৈন্যদশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড়সড় বিপদ সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *