আমেরিকায় ভারতীয় আমের সুনামি! ২০ মিনিটে খালি দোকান, এক একটি আমের দাম ৬০০ টাকা

বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ এখন ভারতীয় আমের কাছে নতমস্তক। আলফনসো আর কেশরের গন্ধে ম ম করছে নিউ ইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ভারতীয় আম কেনার জন্য আমেরিকানরা বড় বড় দোকানের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। হাপুস আর কেশরের জাদুতে কার্যত ‘পাগল’ হওয়ার দশা মার্কিনিদের।
মিনিট বিশেকেই কেল্লাফতে
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকায় এখন ভারতীয় আমের এক অনন্য ‘বিপ্লব’ চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট থেকে জানা গিয়েছে, একটি দোকানে বিকেল ৪টে ৫৬ মিনিটে আমের চালান পৌঁছানোর পর মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ ৫টা ১৬ মিনিটে পুরো স্টক শেষ হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমনই যে, দোকানে আম আসার খবর পেয়ে মানুষ অফিস ছেড়ে পর্যন্ত বেরিয়ে আসছেন। দোকানের বাইরে ঝুলে যাচ্ছে ‘আউট অফ স্টক’-এর বোর্ড।
লক্ষ টাকার ম্যাঙ্গো পাসের রমরমা
আমেরিকায় ভারতীয় আমের উন্মাদনা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা বোঝা যায় ‘ম্যাঙ্গো পাস’-এর সংস্কৃতি দেখে। আমের মৌসুমে বিভিন্ন বড় দোকান ৫০ হাজার থেকে ১.২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের বিশেষ পাস বিক্রি করে। যাদের কাছে এই পাস থাকে, কেবল তারাই আম কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। দামের কথা শুনলে চমকে যেতে হয়— ১০টি আমের একটি বাক্সের দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬০০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি আমের দাম পড়ছে ৬০০ টাকা!
কেন এই ‘আম-বিপ্লব’?
আমেরিকার বাজারে মূলত মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আমেরিকার আম বিক্রি হতো। ১৯৮৯ সালে ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। ২০০৭ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকেই বদলে যায় সমীকরণ। ভারতীয় মাটির মিষ্টতা আর সুগন্ধে মুগ্ধ হয়ে যান আমেরিকানরা। বর্তমানে এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত আমেরিকায় রীতিমতো ‘ভারতীয় আম উৎসব’ পালিত হয়। এমনকি মানুষ আম বহনকারী ফ্লাইটগুলোর ওপর পর্যন্ত নজর রাখেন।
বিশ্ববাজারে ভারতীয় আমের দাপট
- ভারত প্রতি বছর প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন আম উৎপাদন করে।
- বিশ্বের মোট আম উৎপাদনের ৫০ শতাংশই হয় ভারতে।
- ভারতেও আমের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, গড়ে প্রতিজন ভারতীয় বছরে ১৫ কেজিরও বেশি আম খান।
- বিশ্বে আমের ১৫০০টি জাতের মধ্যে ১০০০টি জাতই ভারতে উৎপাদিত হয়।
আমেরিকার এই উন্মাদনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ভারতে যে আমকে খুব সাধারণ বলে মনে করা হয়, বিশ্ববাজারে তার কদর আসলে অমৃতের সমান। জাজল মিয়াজাকি আম যদি আড়াই লক্ষ টাকা কেজি দরে আভিজাত্য বজায় রাখে, তবে স্বাদে আর গন্ধে ভারতীয় আলফনসো এখন সুপারপাওয়ার আমেরিকার ঘরের অন্দরমহলে রাজত্ব করছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।