নয়া বাংলা গড়তে শুভেন্দু ব্রিগেড, আজ শপথের মঞ্চে নারীশক্তির জয়গান

বাংলার ইতিহাসে সূচিত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে আজ ব্রিগেডের ময়দান থেকে শপথ নিতে চলেছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সর্বসম্মতিক্রমেই পরিষদীয় দলের নেতা তথা হবু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। আজই তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হতে চলেছে এক ঝাঁক নতুন মুখ সমৃদ্ধ মন্ত্রিসভা, যেখানে সবথেকে বড় চমক হতে চলেছে নারীশক্তির সরব উপস্থিতি।
নারী শক্তিতেই বাজিমাত, সম্ভাব্য তালিকায় রত্না-রেখা-কলিতারা
বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও মন্ত্রীদের নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা না হলেও, দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী এবার মন্ত্রিসভায় সামাজিক বিপ্লবের প্রতিফলন দেখা যাবে। আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ (জলহাটি থেকে জয়ী) পেতে পারেন বিশেষ দপ্তরের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সন্দেশখালি আন্দোলনের মুখ রেখা পাত্র এবং দিনমজুর পরিবার থেকে লড়াই করে আসা আউশগ্রামের কলিতা মাজিকে মন্ত্রিসভায় রেখে বড় বার্তা দিতে চায় গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্যাতিতা এবং প্রান্তিক নারীদের প্রশাসনিক স্তরে ক্ষমতার অংশীদার করে ‘অত্যাচারিত’ মহিলাদের আস্থা অর্জন করতে চাইছে বিজেপি।
উপমুখ্যমন্ত্রী পদের জল্পনায় অগ্নিমিত্রা ও শংকর
রাজ্যে প্রথমবারের জন্য প্রথা ভেঙে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ তৈরি হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এই দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিনিত্রা পল। সম্প্রতি দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী নেতা শংকর ঘোষের নামও উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে। প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে একজন নয়, বরং দু’জনকেও এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
উত্তরবঙ্গ ও অভিজ্ঞ নেতাদের বড় পুরস্কার
বিকাশ ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের খাতিরে এবার মন্ত্রিসভায় সিংহভাগ গুরুত্ব পাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। মনে করা হচ্ছে, নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া সম্ভাব্য পোর্টফোলিওগুলি হলো
- শিক্ষামন্ত্রী: রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা বিশিষ্ট তাত্ত্বিক স্বপন দাশগুপ্ত।
- ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ: টানা দু’বারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা।
- তথ্য ও সংস্কৃতি: অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।
- স্বাস্থ্যমন্ত্রী: রাজারহাট-নিউটাউনের জয়ী প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া।
- প্রশাসনিক পদ: জগদ্দলের প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারকে দেওয়া হতে পারে স্বরাষ্ট্র বা পুলিশের কোনও গুরুত্বপূর্ণ তদারকি।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়েছে ব্রিগেড
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্রিগেডের ময়দানকে ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। উপস্থিত থাকছেন প্রায় ৪০ জন ভিভিআইপি, যার মধ্যে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা রয়েছেন। নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার।
- ড্রোন নজরদারি: ভিভিআইপিদের সুরক্ষায় পুরো ময়দান এবং সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চালানো হবে।
- নিষেধাজ্ঞা: ব্রিগেডে প্রবেশে ব্যাগ, ছাতা বা জলের বোতল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- বিশেষ বলয়: ময়দান সংলগ্ন বহুতলগুলোতে বসানো হয়েছে স্নাইপার এবং পাহারায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
আজকের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই রাজ্যে এক নয়া প্রশাসনিক জমানার সূচনা হতে চলেছে। একদিকে যেমন অভিজ্ঞতার মিশেলে অভিজ্ঞদের রাখা হচ্ছে, তেমনই সামাজিক বিচার ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে অভিনব সব নাম সামনে এনে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।