১৮ বছরের বড় মুসলিম পাত্রকে বিয়ে করে সমাজ থেকে একঘরে! বিচ্ছেদ নিয়ে এবার অকপট স্বীকারোক্তি তানাজ ইরানির

টিনসেল টাউনের জনপ্রিয় মুখ তানাজ ইরানি। পর্দায় তাঁকে সবসময় হাসিখুশি দেখা গেলেও, পর্দার পেছনের জীবনটা ছিল এক লম্বা সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম বিয়ে এবং বিচ্ছেদ নিয়ে এমন কিছু তথ্য সামনে এনেছেন অভিনেত্রী, যা শুনে স্তম্ভিত তাঁর অনুগামীরা। মাত্র ২০ বছর বয়সে নিজের চেয়ে ১৮ বছরের বড় এক মুসলিম ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন তিনি, যার জেরে নিজের পার্সি সম্প্রদায়ের কাছেও একঘরে হতে হয়েছিল তাঁকে।
পরিণত বয়সের প্রেম বনাম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
প্রথম স্বামী ফরিদ কুরিম সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তানাজ জানান, বয়সের ব্যবধান থাকলেও ফরিদ অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি তানাজকে তাঁর মতো করে জীবন যাপনের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০ বছর বয়সের সেই তানাজ হয়তো অন্য কিছু খুঁজছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “সেই বয়সে হয়তো আমি নিজেকে ঠিকমতো বুঝতে পারিনি। আমি বাইরে যেতে, পার্টি করতে ভালোবাসতাম। তিনি আমার চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ছিলেন, হয়তো সেই কারণেই আমাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো মেলেনি।”
সন্তানের ওপর বিচ্ছেদের প্রভাব ও দীর্ঘ আফসোস
বিচ্ছেদের পর সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তানাজের ছোট্ট মেয়ে। অভিনেত্রী জানান, বিচ্ছেদের ধাক্কা সইতে না পেরে তাঁর মেয়ে একদম চুপচাপ আর একাকী হয়ে গিয়েছিল। আজও সেই সময়ের কথা ভেবে অনুশোচনা করেন তানাজ। তিনি মনে করেন, সেই পরিস্থিতি আরও পরিণতভাবে সামলানো যেত। তবে সেই কঠিন সময় থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পান তিনি।
সংগ্রাম পেরিয়ে নতুনের পথে
ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় সামলে তানাজ মন দেন নিজের কেরিয়ারে। ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ থেকে শুরু করে একাধিক জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা ও টিভি শো-তে নিজের জাত চেনান তিনি। পরবর্তীকালে বখতিয়ার ইরানির সঙ্গে দ্বিতীয়বার ঘর বাঁধেন তিনি। শুরুর দিকে পরিবার ও সমাজের প্রবল বিরোধিতা থাকলেও, সেই বাধার পাহাড় টপকে আজ তাঁরা সুখী দম্পতি। তানাজের এই অকপট স্বীকারোক্তি আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।