মমতাই ধৃতরাষ্ট্র আর অভিষেক কি দুর্যোধন, ফিরহাদ কন্যার ফেসবুক পোস্টে তোলপাড় তৃণমূল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের অব্যবহিত পরেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিচ্ছে। দলের একাধিক মুখপাত্রের পর এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে অস্বস্তি বাড়ালেন খোদ ফিরহাদ হাকিমের কন্যা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী প্রিয়দর্শিনী হাকিম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা একটি পোস্টে তিনি পরোক্ষভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দুর্যোধন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই রূপকধর্মী আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেকার ফাটল এখন পরিবারের অন্দরেও পৌঁছে গিয়েছে।
পারিবারিক আনুগত্য ও ক্ষমতার সংঘাত
প্রিয়দর্শিনী তাঁর পোস্টে মহাকাব্যের উদাহরণ টেনে লিখেছেন, যখন অন্ধ আনুগত্য বিচারবুদ্ধিকে গ্রাস করে, তখন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তিনি সাবধান করে বলেছেন যে চোখের ঠুলি এবং কানের ওপর নির্ভরতা সরিয়ে বাস্তব দেখা জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রিয়দর্শিনীর এই ইঙ্গিত মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের দিকেই লক্ষ্য করা। এর আগে দলের পাঁচজন প্রবীণ নেতাকে শোকজ করা হলেও ফিরহাদ কন্যার এই মন্তব্য দলের জন্য বেশি উদ্বেগের কারণ, কারণ তিনি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রচারের অন্যতম কারিগর ছিলেন।
দলের অন্দরে ফাটল ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে ‘প্রবীণ বনাম নবীন’ লড়াই নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ এবং বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত ফতোয়ার বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি সরব হয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রিয়দর্শিনীর এই মন্তব্য সেই পুরনো তিক্ততাকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের চেইন অফ কমান্ড বা নেতৃত্বের কাঠামোর ওপর নিচুতলার কর্মীদের আস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। যদি এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দ্রুত প্রশমিত না করা যায়, তবে আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।