বাঙালির ধুতি আর সঙ্ঘের গেরুয়া, শপথের মঞ্চে পোশাকেই মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর!

বাঙালির ধুতি আর সঙ্ঘের গেরুয়া, শপথের মঞ্চে পোশাকেই মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর!

শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর শপথবাক্য পাঠের পাশাপাশি সবার নজর কেড়েছে তাঁর পরিহিত পোশাক। একটি গেরুয়া রঙের ফতুয়া এবং সরু দুধে আলতা পাড়ের ধুতি পরে তিনি মঞ্চে উপস্থিত হন, কপালে ছিল উজ্জ্বল গেরুয়া তিলক। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই বেশভূষা কেবল এক টুকরো পোশাক নয়, বরং এর মাধ্যমে তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সঙ্ঘের আদর্শ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

শুভেন্দুর পরনে থাকা গেরুয়া ফতুয়া এবং কপালে তিলককে অনেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রতি তাঁর আনুগত্য এবং আদর্শিক নৈকট্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বিজেপির একটি বড় অংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই তিনি নিজের রাজনৈতিক শিকড় এবং হিন্দুত্ববাদী ভাবধারাকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে চেয়েছেন। গেরুয়া রঙ যেমন ত্যাগের প্রতীক, তেমনই এটি সঙ্ঘ পরিবারের অন্যতম প্রধান পরিচায়ক। এর মাধ্যমে তিনি দলের কট্টর সমর্থকদের যেমন আশ্বস্ত করেছেন, তেমনই তাঁর সরকার কোন আদর্শের পথে হাঁটবে, তার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

বাঙালি সত্ত্বা ও রাজনৈতিক কৌশলের ছাপ

কেবল গেরুয়া রঙ নয়, শুভেন্দুর পোশাকে সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর বাঙালি পরিচয়। সরু লাল পাড়ের ধুতি পরিধান করে তিনি নিজেকে রাজ্যের ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবেই তুলে ধরেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, গেরুয়া ফতুয়া যদি সঙ্ঘের কথা বলে, তবে ধুতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্মারক। এই দুয়ের মিশেলে তিনি একদিকে যেমন দলের আদর্শকে বজায় রেখেছেন, তেমনই বিরোধীদের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে নস্যাৎ করে দিয়ে আপামর বাঙালির কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা করেছেন। পোশাকের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য আগামী দিনে তাঁর প্রশাসনিক পরিচালনা ও জনসংযোগের ক্ষেত্রেও বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *