নাটকীয় মোড়! পুতিনকে সরিয়ে আর্মেনিয়ার বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী এখন ভারত

আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ আর্মেনিয়া এখন ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদারে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে রাশিয়ার সঙ্গে আর্মেনিয়ার সামরিক সম্পর্কের যে সমীকরণ ছিল, বর্তমানে তা প্রায় খাদের কিনারায়। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যস্ততা এবং আজারবাইজানের সঙ্গে সংঘাতের সময় ক্রেমলিনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না পাওয়ায় মস্কোর ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে ইয়েরেভান।
রাশিয়ার একাধিপত্যের অবসান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র এক দশক আগেও আর্মেনিয়ার প্রয়োজনীয় অস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা আমদানিতে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। রাশিয়ার তৈরি করা এই বিশাল শূন্যস্থান পূরণ করতে দ্রুত এগিয়ে এসেছে ভারত ও ফ্রান্স। বিশেষ করে ২০২২ সালের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
ভারতীয় অস্ত্রের শক্তিতে বলীয়ান আর্মেনিয়া
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত দুই বছরে ভারত থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি করেছে আর্মেনিয়া। ভারতের তৈরি পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার, আকাশ-১এস এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, এএটিএজিএস ১৫৫ মিমি হোভিটজার এবং স্বাতী রাডারের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র এখন আর্মেনিয়ার সামরিক শক্তির মূল স্তম্ভ হয়ে উঠছে। এছাড়া ভবিষ্যতে আকাশ-এনজি এবং অস্ত্রা এমকে-২ মিসাইলের মতো উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণেও গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।
কৌশলগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
আর্মেনিয়ার এই অবস্থান পরিবর্তন দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে রাশিয়ার কৌশলগত আধিপত্যের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে ইয়েরেভান এখন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ঝুঁকছে, যেখানে ফ্রান্সও দেশটিকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতের এই সাফল্য বিশ্ববাজারে দেশটির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির প্রমাণ। এর ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্যের মানচিত্রে ভারতের প্রভাব আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।