জোড়াসাঁকোয় ‘জয় শ্রীরাম’ থামিয়ে ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’ ধ্বনি, প্রথম কর্মসূচিতেই বাঙালিয়ানার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম সরকারি কর্মসূচি হিসেবে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর এই বিশেষ দিনে সেখানে গিয়ে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, নতুন সরকারের পথচলা হবে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করেই। দলের গায়ে লেগে থাকা ‘বহিরাগত’ তকমা মুছে ফেলতে এদিন তিনি কেবল পোশাক নয়, স্লোগান এবং বক্তব্যেও কড়া বাঙালিয়ানার ছাপ রাখলেন।
জোড়াসাঁকোয় কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুভেন্দু অধিকারী যখন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে এগোচ্ছেন, তখন পিছনে থাকা কয়েকজন উৎসাহী বিজেপি কর্মী ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে ঠাকুরবাড়ির প্রাঙ্গণে এই স্লোগান শুনে দৃশ্যতই কিছুটা বিরক্ত হন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পিছন ফিরে কর্মীদের নির্দেশ দেন ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’ স্লোগান তুলতে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়া মাত্রই কর্মীদের স্লোগান বদলে যায় এবং চারপাশ মুখরিত হয় কবিগুরুর জয়ধ্বনিতে।
তৃণমূলের দেওয়া ‘বাংলা বিরোধী’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর বিজেপি যে এখন খাঁটি বাঙালিয়ানার পথে হাঁটছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেও এদিন স্পষ্ট হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বাংলা এবং বাঙালির সংস্কৃতি কবিগুরুর চেতনাতেই পরিচালিত হবে এবং আজ তারই শুভ সূচনা হলো। রাজ্যের ইতিমধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে, তাই এবার আর কোনো রাজনৈতিক কচকচানি তিনি চান না। বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন যে, তাঁরা ধুতি পরে থাকা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দল, তাই তাঁদের বাঙালি হওয়া নিয়ে কাউকে আর জ্ঞান দিতে হবে না। তাঁর সরকারের একটাই মন্ত্র হবে—‘চরৈবেতি’ অর্থাৎ এগিয়ে চলো।
উল্লেখ্য, এদিনের শপথগ্রহণের মঞ্চেও ছিল বাংলার নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতির ছড়াছড়ি। দুর্গাপুজোর আবহের পাশাপাশি ছৌ নাচ ও বাউল গানের মাধ্যমে সাজানো হয়েছিল সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঞ্চে উঠে রবীন্দ্রচিত্রে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বাঙালি বনাম অবাঙালি বিভাজনের যে সমীকরণ তৈরি করে গদি ধরে রাখতে চেয়েছিল, বিপুল জয় এবং শপথের মঞ্চ থেকে শুরু করে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত এই ব্যাপক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে বিজেপি আজ তার চূড়ান্ত জবাব দিল।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।