ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব ৬১,০০০ কোটি! যুদ্ধ আর তেলের সংকটের মাঝে হঠাৎ কেন নগদ টাকার জন্য হাহাকার?

ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব ৬১,০০০ কোটি! যুদ্ধ আর তেলের সংকটের মাঝে হঠাৎ কেন নগদ টাকার জন্য হাহাকার?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর তেলের বাজারের অস্থিরতার মাঝেই ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি আর ডিজিটাল লেনদেনে বিপ্লব ঘটানো দেশটিতে হঠাৎ করেই নগদ টাকার চাহিদা তুঙ্গে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ভারতীয় ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকরা প্রায় ৬১,০০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে বাজারে নগদ অর্থের সরবরাহ ৪২.৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা নোটবন্দী পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ। ৪৬ শতাংশ ডিজিটাল লেনদেনের দেশে এই বিপুল পরিমাণ নগদ উত্তোলনের ঘটনা অর্থনীতিবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কেন বাড়ছে নগদ অর্থের চাহিদা

আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই, বরং কয়েকটি বিষয়ের সমষ্টিগত প্রভাব কাজ করছে। প্রথমত, কর নিয়ে আতঙ্ক বা ‘ট্যাক্স প্যানিক’ একটি বড় কারণ। সম্প্রতি কর্ণাটকে কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর ইউপিআই লেনদেন ট্র্যাক করে জিএসটি নোটিশ পাঠানোর পর দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলোকে কেন্দ্র করে বাজারে কাগুজে নোটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া, ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ব্যাংকের চেয়ে ঘরে নগদ টাকা রাখাকেই বেশি নিরাপদ ও সহজলভ্য মনে করছে। অনেকে আবার বাড়তি মুনাফার আশায় সোনা বিক্রি করে সেই অর্থ ব্যাংকে জমা না রেখে নিজেদের কাছেই গচ্ছিত রাখছেন।

ব্যাংকিং খাত ও জাতীয় অর্থনীতিতে অশনিসংকেত

ব্যাংক থেকে ঢালাও হারে টাকা তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সরাসরি আঘাত হানছে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভারসাম্য বা ‘লিকুইডিটি’র ওপর। এইচডিএফসি বা আইসিআইসিআই-এর মতো বড় ব্যাংকগুলোতে ঋণ দান এবং আমানত সংগ্রহের অনুপাত (ক্রেডিট-ডিপোজিট রেশিও) প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো যে হারে ঋণ দিচ্ছে, সেই হারে আমানত জমা পড়ছে না।

এর ফলে বাজারে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। আমানত কমলে ব্যাংকগুলো ঋণের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে, যার ফলে হোম লোন বা কার লোনের কিস্তি (EMI) সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে বড় কো ম্পা নিগুলো বিনিয়োগের তহবিল পাবে না, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে বাধাগ্রস্ত করে অর্থনীতিকে কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *