“দিল্লি থেকে বাংলা, লড়বে তৃণমূল”; শুভেন্দুর শপথের দিনেই অভিষেকের হুঙ্কার!

“দিল্লি থেকে বাংলা, লড়বে তৃণমূল”; শুভেন্দুর শপথের দিনেই অভিষেকের হুঙ্কার!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা হলো। একদিকে যখন রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই পালটা হুঙ্কার ছেড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কলকাতা থেকে দিল্লি— সর্বত্রই জনস্বার্থে আপসহীন এবং সোচ্চার বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে তৃণমূল।

নির্বাচন ও গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

এবারের বিধানসভা নির্বাচনকে ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি’র লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইভিএম-এর নিরাপত্তা এবং কন্ট্রোল ইউনিটের পরিসংখ্যানে গরমিল থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি তুলেছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ পুনর্গণনা করতে হবে।

কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা ও ভবিষ্যৎ সংঘাতের ইঙ্গিত

নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল প্রতিটি কর্মীর পাশে থাকবে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যাতে ঘরছাড়া না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন দলের অগ্রাধিকার।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। একদিকে বিজেপি সরকার গঠনের মাধ্যমে রাজ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া, অন্যদিকে তৃণমূলের এই রণংদেহি মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিধানসভা এবং সংসদ— উভয় ক্ষেত্রেই আগামী দিনে শাসক-বিরোধী সংঘাত চরমে পৌঁছাবে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তৃণমূল জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার কৌশল নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *