৩৭ মিনিটে ২০ বার ফোন, তাও মেলেনি পুলিশি সাহায্য! ট্যাক্সি চালকদের হাতে হেনস্তার শিকার স্কুলছাত্রী

গুরুগ্রাম: দিল্লির উপকণ্ঠ গুরুগ্রামের সোহনা রোডে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হলো এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে। একটি ছোট দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল ট্যাক্সি চালক ওই ছাত্রীর গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং তাকে লক্ষ্য করে হেনস্তা শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে বাঁচাতে দীর্ঘক্ষণ গাড়ির ভেতর বন্দি হয়ে থাকতে হয় ওই ছাত্রীকে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুলিশকে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পুলিশের দীর্ঘ সময় লেগে যায়, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পুলিশের ভূমিকা
সূত্রের খবর, একটি ট্যাক্সির সাথে ওই ছাত্রীর গাড়ির ধাক্কা লাগলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই ট্যাক্সি চালকরা জড়ো হয়ে ছাত্রীর গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং গাড়ির চালককে মারধর করে। ভীতসন্ত্রস্ত ছাত্রীটি গাড়ির দরজা ভেতর থেকে আটকে দিয়ে তার মাকে ফোন করে বিস্তারিত জানায়। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বিকেল ৫টা ২ মিনিটে প্রথম পুলিশকে জানানো হয়। এরপর দফায় দফায় প্রায় ২০ বার পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করা হলেও সাহায্য পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩৭ মিনিট। ততক্ষণে ওই নাবালিকা চরম আতঙ্কে গাড়ির ভেতরে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে কড়া সমালোচনা শুরু হয়। অনেক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ১০ মিনিটে খাবার ডেলিভারি সম্ভব হলেও বিপদের সময় পুলিশের আসতে আধঘণ্টার বেশি সময় লাগা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত চালককে ২০০০ টাকা দিতেও বাধ্য করা হয়।
গুরুগ্রাম পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং কেন পুলিশের পৌঁছাতে দেরি হলো তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনা শহরের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং পুলিশের জরুরি পরিষেবার সক্ষমতাকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।