“সুযোগ পেলেই পিঠে ছুরি মারে কংগ্রেস!” বেঙ্গালুরুতে দাঁড়িয়ে ডিএমকে ইস্যুতে তোপ মোদীর

বেঙ্গালুরুতে ‘দ্য আর্ট অফ লিভিং’ ফাউন্ডেশনের ৪৫তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কংগ্রেস মিত্রপক্ষকেও প্রতারণা করতে দ্বিধা করে না বলে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস বর্তমানে একটি ‘পরজীবী’ দলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের অবনতিকে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের সুবিধাবাদী চরিত্রের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
মিত্রপক্ষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও অভ্যন্তরীণ বিবাদ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, দীর্ঘ তিন দশক ধরে ডিএমকে কংগ্রেসকে নানা সংকটে সাহায্য করলেও ক্ষমতার লোভে কংগ্রেস সেই সম্পর্কের মর্যাদা রাখেনি। তাঁর মতে, ২০১৪ সালের আগে টানা দশ বছর ডিএমকে-র সমর্থনেই কংগ্রেস কেন্দ্রে সরকার টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল, অথচ রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই তারা সহযোগীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শুধু বাইরে নয়, কংগ্রেসের ভেতরেও চরম বিশৃঙ্খলা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কর্ণাটক, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, কংগ্রেস সরকারগুলো জনসেবার বদলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতেই ব্যস্ত। কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী কতদিন পদে থাকবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।
নারীবিদ্বেষ ও নির্বাচনী সাফল্যের বার্তা
কংগ্রেসকে দেশের ‘বৃহত্তম নারীবিদ্বেষী দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী বিল পাশ হতে না দিয়ে কংগ্রেস নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাধা দিয়েছে। তাঁর দাবি, এই বিল পাশ হলে কর্ণাটক থেকে বিপুল সংখ্যক নারী সংসদ ও বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং পুদুচেরিতে এনডিএ জোটের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, দেশের মানুষ এখন উন্নয়নের পক্ষে রায় দিচ্ছে। ১৮৫৭ সালের ১০ মে সিপাহি বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বেঙ্গালুরুতে আজ গেরুয়া সূর্যের উদয় হয়েছে এবং বিজেপির এই জয়যাত্রা আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।