মমতার মুখে বাম-স্তুতি! এবার আইপ্যাক-কে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূলের প্রাক্তন ছাত্রনেতা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে বামপন্থীদের সঙ্গে জোট বা বোঝাপড়ার বার্তা নিয়ে এবার দলের ভেতরেই শুরু হলো বড়সড় বিতর্ক। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সুপ্রিয়ো চন্দ এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। নেত্রীর এই বয়ান তাঁর নিজস্ব নয়, বরং আইপ্যাকের লিখে দেওয়া ‘স্ক্রিপ্ট’—এমন বিস্ফোরক দাবিতে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
পুরনো কর্মীদের আবেগ ও আইপ্যাক বিতর্ক
সুপ্রিয়ো চন্দর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মাপের একজন নেত্রী কখনোই বামেদের সঙ্গে জোটের প্রস্তাব নিজে থেকে দিতে পারেন না। তাঁর মতে, আইপ্যাকের পরামর্শে বা চাপে পড়েই হয়তো নেত্রীকে এমন কথা বলতে হয়েছে। এই প্রস্তাবকে তৃণমূলের পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত ‘আসাম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যে বাম শাসনকে উৎখাত করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর ভাবনা তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের আবেগ ও লড়াইকে খাটো করে বলে মনে করছেন এই ছাত্রনেতা।
তৃণমূলের অন্দরে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিয়োর এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিনের লড়াই করা কর্মী ও নেতাদের একাংশ মনে করছেন, পেশাদার নির্বাচনী সংস্থার পরামর্শে চলতে গিয়ে তৃণমূল তার চিরাচরিত লড়াকু মেজাজ ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। ছাত্রনেতার এই সরব হওয়া আগামী দিনে দলের নীতি নির্ধারণে এবং আইপ্যাকের ভূমিকার প্রশ্নে নেতৃত্বের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বামেদের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সুপ্রিয়োর বক্তব্য তাকে আরও উসকে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।