“জ্বলছে খেজুরি, পুড়ছে রুটিরুজি; এটাই কি বিজেপির ভয় তাড়ানোর রাজনীতি?”— এক্স হ্যান্ডেলে তোপ অভিষেকের

কলকাতা: ৪ জুন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তাপ জারি রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে ব্যাপক হিংসার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, খেজুরির নিচকাসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিজলি শরিফ এলাকায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়ে অন্তত ৬০টিরও বেশি দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছে। রবিবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বর্বরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ ও রাজনৈতিক কটাক্ষ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় হিন্দু বা মুসলিম কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের দোকানই রেহাই পায়নি। তিনি অভিযোগ করেছেন, মানুষের জীবিকা কেড়ে নিয়ে ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে বিজেপি। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ নয়, বরং বাংলার দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর এক পরিকল্পিত হামলা। বিজেপির ‘ভয় তাড়ানোর রাজনীতি’র স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবেই কি বাংলা জ্বালিয়ে ভয়ের রাজনীতি শেষ করার নমুনা তৈরি হচ্ছে?
শপথ গ্রহণ ও পরবর্তী পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, গত শনিবারই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকলেও প্রোটোকল মেনে আমন্ত্রণ সত্ত্বেও যোগ দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নতুন সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খেজুরির মতো এলাকায় এমন বড় মাপের হিংসার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রশাসনের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব
যদিও এই নির্দিষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে নির্বাচনের ফল পরবর্তী অশান্তি রুখতে পুলিশ ইতিপূর্বে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এবং বেশ কিছু গ্রেফতারিও হয়েছে। খেজুরির এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অসংখ্য মানুষ তাঁদের একমাত্র উপার্জনের পথ হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।