‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত, শুধু নির্দেশের অপেক্ষা’— মার্কিন ড্রোন হামলার জবাবে গর্জে উঠল ইরান

‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত, শুধু নির্দেশের অপেক্ষা’— মার্কিন ড্রোন হামলার জবাবে গর্জে উঠল ইরান

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের তেল ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার পাল্টা হুমকি দিয়েছে ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিল।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও আইআরজিসির হুঁশিয়ারি

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে বেশ কিছু খণ্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর প্রেক্ষিতে আইআরজিসি নেভি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানি জাহাজে যেকোনো হামলার চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক কেন্দ্র এবং শত্রু জাহাজগুলোতে বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ডিভিশন জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো ইতিমধ্যেই মার্কিন লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে রেখেছে এবং তারা কেবল চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় আছে।

সংকটের মূলে নিয়ন্ত্রণ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিবাদে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় এবং শত্রুভাবাপন্ন জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটন এই জলপথে নৌ-অবরোধ আরোপ করলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও মার্কিন অবস্থান

এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার মন্থর গতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস’-এর মতো আরও কঠোর কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক কৌশলে ফিরে যেতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *