রেখা পাত্রের জয়েই কেন ন্যাড়া হচ্ছেন? ১৫ বছরের বিভীষিকা মুছে কালীতলায় বিজেপি কর্মীদের অভিনব উৎসব!

স্বাধীনতার পর বঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, আর এই পালাবদলের আবহে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ফুটে উঠল এক অনন্য ছবি। হেমনগর কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারঘুমটি এলাকায় বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের জয় উদযাপন করতে এবং দীর্ঘদিনের পুরনো মানত পূরণ করতে মস্তক মুণ্ডন করলেন একদল দলীয় কর্মী। জয়ের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের যন্ত্রণামুক্তির আবেগে কালীতলার ২৫০ নম্বর বুথের পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আবেগঘন।
স্মৃতিতে বিভীষিকা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা
বিজেপি কর্মীদের এই মস্তক মুণ্ডনের নেপথ্যে রয়েছে ২০১১ সালের এক ভয়াবহ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ইতিহাস। জানা গিয়েছে, তৎকালীন শাসকদলের দাপটে এলাকাছাড়া হতে হয়েছিল স্থানীয় কর্মী নিতাই পদ রায় ও তাঁর পুত্র দীনবন্ধু রায়কে। প্রাণ বাঁচাতে তারা সুন্দরবনের বাঘের ভয় উপেক্ষা করে সাত ঘণ্টা নদীর ধারে জঙ্গলে লুকিয়ে ছিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের সেই রাজনৈতিক ‘অত্যাচার’ এবং বঞ্চনার অবসানে বাংলায় নতুন সরকার আসতেই তারা নিজেদের প্রতিজ্ঞা পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
আন্দোলনের জয় ও রাজনৈতিক প্রভাব
সন্দেশখালি আন্দোলনের পরিচিত মুখ রেখা পাত্র ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট থেকে ব্যর্থ হলেও, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ১ লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। হিঙ্গলগঞ্জের এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সন্দেশখালির আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থনের সিলমোহর হিসেবে দেখছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং রাজনৈতিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে বিজেপি কর্মীদের এমন আচরণ আদতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও স্বস্তির প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। দেবী কালীর চরণে পুজো দিয়ে এই মস্তক মুণ্ডন উৎসব এখন হিঙ্গলগঞ্জের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।