রাজ‍্যে সরকার বদলাতেই বড় পদক্ষেপ: অবশেষে জনসমক্ষে ২০১৬-র SSC পরীক্ষার ওএমআর শিট!

রাজ‍্যে সরকার বদলাতেই বড় পদক্ষেপ: অবশেষে জনসমক্ষে ২০১৬-র SSC পরীক্ষার ওএমআর শিট!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই বড়সড় পদক্ষেপ নিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর (OMR) শিট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চলেছে কমিশন। আদালতের কড়া নির্দেশ এবং প্রশাসনিক পালাবদলের এই আবহে কমিশনের এমন সিদ্ধান্তকে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ধাপে ধাপে ওএমআর প্রকাশের প্রক্রিয়া

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ওএমআর শিট প্রকাশের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে নবম ও দশম শ্রেণির ওএমআর শিট আপলোড করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা এসএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের রোল নম্বর ব্যবহার করে এই ওএমআর শিট দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন। ইতিপূর্বেই কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল যে, ওএমআর শিটই ছিল নিয়োগ দুর্নীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির আগেই তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওএমআর প্রকাশের কাজ শুরু করল কমিশন।

আন্দোলনকারীদের উল্লাস ও আগামী পরিকল্পনা

কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয় হিসেবে দেখছেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা। ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অনশনকারী মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক সুমন বিশ্বাস এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর এই স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ২৬ হাজার চাকরিহারার মধ্যে যারা বৈধ প্রার্থী ছিলেন, তাদের ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

আগামী ১৩ মে করুণাময়ী মোড়ে একটি শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো। সেখানে তারা পরবর্তী রণকৌশল স্থির করবেন এবং এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গেও বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ওএমআর শিট প্রকাশ্যে আসায় প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চনা দূর হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরবে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *