“পেট্রোল-ডিজেল ব্যবহারে রাশ টানুন”, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝে দেশবাসীকে সতর্ক করলেন মোদী

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রোববার হায়দ্রাবাদে এক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস ব্যবহারে অত্যন্ত সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জ্বালানি সংকটের মূল কারণ
বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমোজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের এই প্রধান পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে, ফলে এই নাকেবন্দি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমদানি নির্ভরতা কমানোর তাগিদ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান যে, যুদ্ধের এই নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের অপচয় রোধ করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “কেবলমাত্র অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই আমাদের এই জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত।” সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনি বৈশ্বিক সংকটের মুখেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিকল্প জ্বালানির পথে ভারত
জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য ও বিকল্প শক্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে সৌরশক্তি উৎপাদনে ভারতের বর্তমান অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও মিতব্যয়ী আচরণই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।