মন্দির পূজারিদের চরম অবহেলা! বেতন পর্যালোচনায় ‘বিচার বিভাগীয় কমিশন’-এর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা

মন্দির পূজারিদের চরম অবহেলা! বেতন পর্যালোচনায় ‘বিচার বিভাগীয় কমিশন’-এর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা

দেশের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন মন্দিরগুলোর পুজারী ও সেবায়েতদের জীবনযাত্রার মান এবং নামমাত্র বেতন নিয়ে এবার সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন আইনজীবীরা। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় দাবি জানানো হয়েছে যে, সরকার পরিচালিত মন্দিরগুলোর কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনার জন্য একটি দ্রুত ‘বিচারবিভাগীয় কমিশন’ বা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের করা এই আবেদনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সংবিধানিক অধিকার ও বর্তমান বাস্তবতা

আবেদনকারীর মূল যুক্তি হলো, যখন কোনো রাজ্য সরকার মন্দিরের প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয়, তখন সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ‘নিয়োগকর্তা ও কর্মচারী’ সম্পর্ক তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুজারীদের সম্মানজনক পারিশ্রমিক না দেওয়া সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘জীবনধারণের অধিকার’-এর সরাসরি লঙ্ঘন। বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের একাধিক মন্দিরের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে যে, সেখানে দিনরাত সেবা করা কর্মীরা এমনকি অদক্ষ শ্রমিকদের সমপরিমাণ ন্যূনতম মজুরি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

পদ্ধতিগত শোষণ ও প্রশাসনিক বৈষম্য

আবেদনে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় পুজারীদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে একে ‘পদ্ধতিগত শোষণ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী ‘দক্ষিণা’ নেওয়ার ওপরও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চলছে, যা পুজারীদের জীবনকে চরম সংকটে ফেলেছে। ২০২৬ সালের বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে নির্দিষ্ট আয় ছাড়া এই বিশাল সংখ্যক ধর্মীয় সেবকদের জীবন আজ অনাহারের মুখে।

এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এখন এটাই দেখার বিষয় যে, আদালত এই ‘আধ্যাত্মিক রক্ষকদের’ শ্রমের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একইসাথে, শুধুমাত্র মন্দিরগুলো কেন সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এই বৈষম্যমূলক নীতির বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *