না অক্সিজেন, না জল! মহাকাশ থেকে আগ্নেয়গিরি— কোনো কিছুতেই মরে না এই ‘অমর’ জীব!

না অক্সিজেন, না জল! মহাকাশ থেকে আগ্নেয়গিরি— কোনো কিছুতেই মরে না এই ‘অমর’ জীব!

মানুষ নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী জীব দাবি করলেও প্রকৃতির বুকে এমন এক বিস্ময়কর প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে যা বিজ্ঞানের সমস্ত সংজ্ঞাকে হার মানিয়ে দেয়। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই প্রাণীর নাম টারডিগ্রেড, যা সাধারণ মহলে ‘ওয়াটার বিয়ার’ নামে পরিচিত। চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার অদম্য ক্ষমতা দেখে বিজ্ঞানীরা একে পৃথিবীর সবচেয়ে সহনশীল জীব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রকৃতির চরম সীমানাতেও অপরাজেয়

যেখানে সামান্য তাপমাত্রার হেরফেরে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়, সেখানে টারডিগ্রেড ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা অনায়াসে সহ্য করতে পারে। আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত ছাই থেকে শুরু করে মহাকাশের হাড়কাঁপানো শীতল শূন্যতা—কোনো কিছুই একে পরাস্ত করতে পারে না। ২০০৭ সালে এক গবেষণায় একঝাঁক টারডিগ্রেডকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল; ফিরে আসার পর দেখা যায় তারা কেবল জীবিতই নেই, বরং মহাকাশের বৈরী পরিবেশে বংশবৃদ্ধিও করেছে।

বেঁচে থাকার রহস্য ও ক্রিপ্টোবায়োসিস

এই প্রাণীর দীর্ঘায়ু হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ‘ক্রিপ্টোবায়োসিস’ নামক এক বিশেষ জৈবিক প্রক্রিয়া। যখন এর চারপাশের পরিবেশ থেকে জল শুকিয়ে যায়, তখন এটি নিজের শরীরের বিপাকীয় কাজ বন্ধ করে এক প্রকার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায়। এই অবস্থায় অক্সিজেন, খাবার বা জল ছাড়াই এটি কয়েক দশক টিকে থাকতে পারে। পুনরায় আর্দ্রতা বা জলের সংস্পর্শে আসা মাত্রই এর কোষগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রাণীটি ফিরে পায় তার স্বাভাবিক জীবন।

ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানে টারডিগ্রেড জিন

টারডিগ্রেডের শরীরে ‘প্যারাম্যাক্রোবায়োটাস’ নামক একটি বিশেষ জিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা একে মারাত্মক ইউভি রশ্মি ও তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষা দেয়। এই জিন ক্ষতিকারক আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মিকে শুষে নিয়ে নীল আলোতে রূপান্তর করে দেয়, ফলে কোনো শারীরিক ক্ষতি হয় না। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে গবেষণা করছেন যে, এই জিনের বৈশিষ্ট্য অন্য কোনো জীবের মধ্যে স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার নতুন কোনো পথ খোলা সম্ভব কি না।

এক ঝলকে

  • টারডিগ্রেড বা ‘ওয়াটার বিয়ার’ ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং মহাকাশের তেজস্ক্রিয়তাতেও বেঁচে থাকতে সক্ষম।
  • ‘ক্রিপ্টোবায়োসিস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি জল ও অক্সিজেন ছাড়া কয়েক বছর নিষ্ক্রিয় অবস্থায় জীবন ধারণ করতে পারে।
  • এই প্রাণীর বিশেষ জিন ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মিকে নিরাপদ নীল আলোতে রূপান্তর করে নিজেকে সুরক্ষা দেয়।
  • বিজ্ঞানীদের মতে, এটি পৃথিবীর ইতিহাসে জানা সবচেয়ে শক্তিশালী ও সহনশীল জীব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *