ঘুষের নোটে ইঁদুরের ভোজ! বিহারের আজব কাণ্ড দেখে তাজ্জব সুপ্রিম কোর্টও

ঘুষের নোটে ইঁদুরের ভোজ! বিহারের আজব কাণ্ড দেখে তাজ্জব সুপ্রিম কোর্টও

বিহারে দুর্নীতির মামলায় জব্দ করা ঘুষের টাকা ইঁদুরে কুঁদে ফেলেছে— আদালতে এমন চাঞ্চল্যকর দাবিতে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন খোদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। ২০১৪ সালের এক দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত এক নারী সরকারি কর্মকর্তার জামিন শুনানিকালে এই অদ্ভুত তথ্য সামনে আসে। উচ্চ আদালতের রায়ে এই ঘটনার উল্লেখ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া ও মালখানার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।

প্রমাণের অভাব বনাম আদালতের পর্যবেক্ষণ

ঘটনাটি বিহারের এক শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ কেন্দ্রিক। নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে মুক্তি দিলেও হাইকোর্ট তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়। শুনানির সময় দেখা যায়, জব্দ করা সেই নোটগুলো আদালত কক্ষে পেশ করা সম্ভব হয়নি কারণ মালখানায় ইঁদুর সেগুলো নষ্ট করে ফেলেছে। যদিও নথিতে নোটের এন্ট্রি ছিল, কিন্তু ভৌত প্রমাণের অভাবে উদ্ধার প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। তা সত্ত্বেও অন্যান্য সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা বহাল রাখা হয়েছিল।

রাজস্ব ক্ষতি ও আইনি স্বচ্ছতার প্রশ্ন

বিচারপতি জে বি পাদ্রিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ ইঁদুরের নোট খাওয়ার এই যুক্তিকে সহজে মেনে নিতে পারেননি। আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, মালখানার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হওয়া দেশের রাজস্বের জন্য বড় ক্ষতি। অভিযুক্ত নারী কর্মকর্তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও আদালত স্পষ্ট করেছে যে, পরবর্তী শুনানিতে ইঁদুরের এই ‘সাফাই’ কতটা গ্রহণযোগ্য তা খতিয়ে দেখা হবে।

এক ঝলকে

  • ২০১৪ সালে বিহারের এক নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
  • জব্দ করা টাকা ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়।
  • সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনাকে অবিশ্বাস্য এবং রাজস্বের বড় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
  • অভিযুক্তকে জামিন দিয়ে আদালত পরবর্তী শুনানিতে মালখানার অব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *