“বাংলাকে লুটেছে কংগ্রেস-বাম-তৃণমূল, ডাবল ইঞ্জিন সরকার এলে গুণ্ডাদের ঠাঁই হবে না”: কাটোয়ায় গর্জন যোগীর!

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ শোষণ ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি দাবি করেন, বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল বাংলা থেকে উন্নয়নের সম্পদ লুটে নিয়েছে। তাঁর মতে, একদা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ আজ নিজের পরিচয় সংকটে ভুগছে। যোগী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে পাঠানো উন্নয়নের অর্থ তৃণমূলের ক্যাডাররা কুক্ষিগত করছে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি
রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যোগী আদিত্যনাথ জানান, বাংলায় আজ সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মা দুর্গার পূজা থেকে শুরু করে রাম নবমীর শোভাযাত্রা—সব ক্ষেত্রেই বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ নীতি কার্যকর হওয়ায় আজ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বাংলায় ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হলে এখানকার মাফিয়া ও দুষ্কৃতীদের একইভাবে দমন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় ‘কাটমানি’ সংস্কৃতির অবসান ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন জোয়ার আসবে।
শিল্পের অভাব ও বেকারত্ব নিয়ে তোপ
বাংলার শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল জমানায় প্রায় ৩০ লক্ষ তরুণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুবসমাজ আজ ভিনরাজ্যে কাজ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকরা ফসলের নায্য দাম পাচ্ছেন না। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খেলা হবে’ স্লোগানের পাল্টা দিয়ে বলেন, এবার বাংলায় এই অরাজকতার খেলা শেষ হবে এবং উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। কাটোয়ার পুণ্যভূমিকে প্রণাম জানিয়ে তিনি স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
এক ঝলকে
- কাটোয়ার জনসভায় তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামপন্থীদের তীব্র সমালোচনা করলেন যোগী আদিত্যনাথ।
- বাংলার শিল্প ধ্বংস ও ৩০ লক্ষ তরুণের বেকারত্বের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করেন তিনি।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশের মডেলে মাফিয়া দমনের হুঁশিয়ারি ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি।
- কেন্দ্র থেকে পাঠানো টাকা চুরির অভিযোগ তুলে কাটমানি প্রথা বন্ধের ডাক।