“আমার ঘর কেড়েছে, ৫৫ ঘণ্টা জেরা করেছে, মমতার বেলা কেন চুপ মোদী?” শহিদ মিনারে বিস্ফোরক রাহুল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রচার তুঙ্গে তুলে কলকাতায় এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শহিদ মিনার ময়দানের ওই জনসভায় তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিহিংসাবশত তাঁর লোকসভার সদস্যপদ কেড়ে নিয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা দিয়েছে। অথচ দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। রাহুলের মতে, এই নীরবতাই প্রমাণ করে যে পর্দার আড়ালে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে।
তৃণমূলের দুর্নীতি ও ইডির নিষ্ক্রিয়তা
বক্তব্যের শুরুতেই নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন রাহুল। তিনি বলেন, “আমি আজ জামিনে মুক্ত হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। নরেন্দ্র মোদী আমার বাড়ি কেড়ে নিয়েছেন, আমার সদস্যপদ বাতিল করেছেন এবং ইডি আমাকে ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু দিদির ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন কেন?” তিনি সারদা ও রোজ ভ্যালির মতো চিটফান্ড কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন, লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর টাকা লোপাট হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর তদন্ত হচ্ছে না।
আসল লড়াই বনাম রাজনৈতিক ছক
রাহুল গান্ধীর দাবি, বিজেপি খুব ভালো করেই জানে যে তাদের আসল লড়াই কংগ্রেস, আরজেডি এবং আদর্শিক শক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর মতে, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির লড়াই কেবল লোকদেখানো, কারণ তৃণমূল আদতে বিজেপির সহযোগী হিসেবেই কাজ করছে। রাজ্যে চলা ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ এবং দুর্নীতির পাহাড় থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রের এই নমনীয় মনোভাবকে তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। এই আক্রমণাত্মক প্রচারের ফলে ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- কলকাতার জনসভায় রাহুল গান্ধী নিজের বিরুদ্ধে থাকা ৩৬টি মামলা ও ইডির জিজ্ঞাসাবাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
- সারদা ও রোজ ভ্যালি কাণ্ডে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীর টাকা লোপাটের জন্য তৃণমূলকে সরাসরি দায়ী করেন।
- বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে কংগ্রেসকেই আসল বিকল্প হিসেবে দাবি করেন।