‘এভাবে মিটিং করা আসাম্ভব, আমায় ক্ষমা করবেন’, ভবানীপুরে শুভেন্দুর সভার মাইক-যুদ্ধে ‘অপমানিত’ হয়ে মঞ্চ ছাড়লেন মমতা!

নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল ভবানীপুর। শনিবার সন্ধ্যায় ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবেড়িয়ায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সভামঞ্চের অদূরেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভার মাইক তারস্বরে বাজতে শুরু করলে নিজের বক্তৃতা থামিয়ে দিতে বাধ্য হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক ক্ষোভ
বক্তৃতায় বিঘ্ন ঘটায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি অভিযোগ করেন, সমস্ত অফিশিয়াল পারমিশন থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে তাঁর সভায় বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। মঞ্চ থেকেই তিনি ফোনে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এই ঘটনাকে ‘অপমানজনক’ ও ‘গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এটি বিরোধী শিবিরের উস্কানিমূলক আচরণ এবং পায়ে পা বাড়িয়ে ঝগড়া করার শামিল।
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং মাইকের শব্দ ক্রমশ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সভা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি জানান, এই ধরনের অসভ্যতামির মধ্যে সভা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এর প্রতিবাদে তিনি আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকায় পুনরায় র্যালি করার ঘোষণা দেন। শেষে ভোটারদের কাছে এই ‘হিউমিলেশন’ বা অপমানের জবাব ব্যালট বক্সে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি মঞ্চ ত্যাগ করেন।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় সভা চলাকালীন মাইক বিভ্রাটে বক্তব্য মাঝপথে থামিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- শুভেন্দু অধিকারীর সভার মাইক ব্যবহারের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেত্রীর।
- ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত অপমান’ আখ্যা দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
- সভা পণ্ড হওয়ার প্রতিবাদে ওই এলাকায় পুনরায় নির্বাচনী প্রচার ও র্যালির ডাক দেওয়া হয়েছে।