‘এই বাড়ি দাদুর, আপনাদের নয়!’ জন্মদিনে সত্য জেনে মা-বাবার বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত মেয়ের

‘এই বাড়ি দাদুর, আপনাদের নয়!’ জন্মদিনে সত্য জেনে মা-বাবার বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত মেয়ের

স্মৃতি আর ষড়যন্ত্রের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধের কান্নার আখ্যান এখন জনসমক্ষে। যে দাদাকে দীর্ঘ আট বছর ধরে দূর গ্রামে বা কাকার বাড়িতে আছেন বলে ভাবত তাঁর আদরের নাতনি নিভা, সেই দাদাকে শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া গেল এক বৃদ্ধাশ্রমের জীর্ণ কোণে। একটি সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের অন্দরে লুকিয়ে থাকা নির্মম লালসা আর প্রতারণার এই চিত্রটি আধুনিক সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

সম্পত্তি দখল ও সাজানো মিথ্যা

ঘটনার সূত্রপাত আট বছর আগে, যখন নিভার স্কুল থেকে ফেরার আগেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান তাঁর প্রাক্তন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাদা। নিভার মা এবং বাবা তাকে জানিয়েছিলেন যে, দাদা কাকার বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বছরের পর বছর নিভাকে জন্মদিনের চিঠি লিখে পাঠানো হতো দাদার নামে, যা আসলে ছিল তাঁর মায়ের সাজানো নাটক। সম্প্রতি নিভার মায়ের এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের জন্য বৃদ্ধাশ্রমে দান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। সেখানে জরাজীর্ণ অবস্থায় নিজের দাদাকে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় নিভা।

সামাজিক সম্মান বনাম অমানবিক আচরণ

তদন্তে ও নিভার পারিবারিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেওয়ার পর নিজের উপার্জিত অর্থে তৈরি দোতলা বাড়িতেই নিভার বাবার পরিবার বসবাস করত। কিন্তু সম্পত্তির লোভে দুই ভাই মিলে বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেন। এমনকি প্রতিবেশীদের কাছে এবং নিজের সন্তানের কাছে বাবার চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে তাঁকে সমাজচ্যুত করা হয়। নিভার বাবা ও কাকা জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আদর্শ বড়

এই ঘটনার প্রতিবাদে অটল নিভা তাঁর বাবার দেওয়া সমস্ত বিলাসিতা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবারের এই হীন মানসিকতায় ধিক্কার জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যে সম্পত্তিতে তাঁর দাদার অধিকার নেই, সেই বাড়িতে তিনিও থাকবেন না। নিভা বর্তমানে বৃদ্ধাশ্রম থেকে তাঁর দাদাকে ফিরিয়ে এনে তাঁর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই শুরু করেছেন। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অনেক সময় রক্তের সম্পর্কের চেয়েও নৈতিক আদর্শ এবং বিবেক অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ায়।

এক ঝলকে

  • সচ্ছল পরিবারের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকে আট বছর ধরে বৃদ্ধাশ্রমে বন্দি করে রাখার তথ্য ফাঁস।
  • সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে দুই ছেলে মিলে বাবার নামে মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
  • মায়ের মৃত্যুর পর বৃদ্ধাশ্রমে দান করতে গিয়ে নিজের দাদাকে খুঁজে পায় নাতনি নিভা।
  • পরিবারের এই হীন চক্রান্তের প্রতিবাদে ঘর ছাড়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নাতনির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *