প্রতিদান! ৪ বছর আগে সম্মান বাঁচিয়েছিলেন যে ট্রাকচালক, আজ মৃত্যুমুখ থেকে তাঁকেই ফিরিয়ে আনল সেই তরুণী

চার বছর আগে উত্তরপ্রদেশের পিলভিট-টনকপুর সড়কের হর্দয়ালপুর গ্রাম সংলগ্ন গহীন জঙ্গলে সতেরো বছর বয়সী কিরণ এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিল। গভীর রাতে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া দুই দুষ্কৃতীর হাত থেকে নিজের সম্ভ্রম ও জীবন বাঁচাতে যখন সে লড়াই করছিল, তখন দেবদূতের মতো হাজির হয়েছিলেন ট্রাক চালক আসলাম। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েও বন্ধুদের সহায়তায় সেদিন কিরণকে রক্ষা করেছিলেন তিনি। সুস্থ হওয়ার পর আসলাম সে যাত্রায় ফিরে গেলেও তাঁদের মধ্যে এক অদৃশ্য মানবিক বন্ধন তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
অঘটনের পুনরাবৃত্তি ও প্রতিদান
সম্প্রতি সেই একই এলাকায় আসলামের ট্রাকে হঠাৎ আগুন লেগে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি কিরণের বাড়ি থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বিকট শব্দ ও আর্তনাদ শুনে মা সাবিত্রী দেবীকে নিয়ে ছুটে আসে কিরণ। জীবন সংকটে থাকা ট্রাক চালককে তারা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নিবিড় সেবা শুশ্রূষার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে। জ্ঞান ফেরার পর একে অপরকে চিনতে পেরে তাঁরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
ধর্ম ছাপিয়ে মানবিকতার জয়
এই ঘটনাটি কেবল জীবন বাঁচানোর নয়, বরং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার বছর আগে যে আসলাম বোনকে বাঁচাতে গিয়ে রক্ত ঝরিয়েছিলেন, আজ সেই বোনই নিজের সেবায় দাদাকে যমের দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনলেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিকতার খাতিরে বর্তমানে কিরণ আসলামকে নিজের বড় ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এখন এতটাই দৃঢ় যে, প্রতি বছর নিয়ম করে আসলামকে রাখি পরিয়ে নিজের কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে কিরণ।
এক ঝলকে
- চার বছর আগে দুই দুষ্কৃতীর হাত থেকে কিরণকে উদ্ধার করেছিলেন ট্রাক চালক আসলাম।
- সম্প্রতি আসলামের ট্রাকটি অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে খাদে পড়ে গেলে কিরণ তাঁকে উদ্ধার করে।
- মুমূর্ষু অবস্থায় আসলামের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে তাঁকে সুস্থ করে তোলে কিরণের পরিবার।
- পুরানো উপকারের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এখন আসলামকে নিজের ভাই হিসেবে মর্যাদা দিচ্ছে কিরণ।