চেন্নাইয়ে বিজয়ের হাত ধরলেন রাহুল, বেঙ্গালুরু থেকে কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ খোঁচা মোদীর!

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে আজ এক বিরল ও বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যখন চেন্নাইয়ের রাজপথে কংগ্রেস এবং অভিনেতা বিজয় পরিচালিত টিভিকে-র (তামিলনাগ ভেক্ট্রি কাজাগাম) জোট সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটক থেকে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের সঙ্গী ডিএমকে-কে ত্যাগ করে বিজয়ের হাত ধরায় কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ তকমা প্রধানমন্ত্রীর
বেঙ্গালুরুতে বিজেপি কর্মীদের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ দল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য জোটসঙ্গীদের ব্যবহার করে এবং সুযোগ বুঝে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করে। গত তিন দশক ধরে বিভিন্ন সংকটে ডিএমকে যেভাবে কংগ্রেসকে সমর্থন জুগিয়েছে, সেই ইতিহাস টেনে মোদী দাবি করেন যে, ক্ষমতার লোভে কংগ্রেস তাদের পুরনো মিত্রের পিঠে ছুরি মেরেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, কংগ্রেসের রাজনীতি এখন কেবল টিকে থাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
অভ্যন্তরীণ কলহ ও সুশাসনের অভাব
কর্ণাটকের বর্তমান কংগ্রেস সরকারের শাসনব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মধ্যকার টানাপড়েনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি জানান, গত তিন বছর ধরে কর্ণাটকে উন্নয়নের বদলে নিজেদের বিবাদ মেটাতেই বেশি ব্যস্ত শাসকদল। কংগ্রেসের জনমোহিনী ‘গ্যারান্টি’গুলো আদতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং এর ফলে দ্রুত জনরোষ তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মোদীর দাবি, বিজেপিই বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের একমাত্র ভরসা।
চেন্নাইয়ে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান যেমন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে-হীন এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই মোদীর এই আক্রমণ আসন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে মেরুকরণের মাত্রা আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।