মৃত্যুকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে নীল নদের উত্তাল ঢেউয়ে ভাসছেন যুবক! ভিডিও দেখে স্তম্ভিত নেটদুনিয়া

বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীল নদের প্রমত্তা স্রোত আর ভয়ংকর ঢেউয়ের মাঝে এক ব্যক্তির নিশ্চিন্তে ভেসে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় ধারণ করা এই ভিডিওটি ইতিমধ্যে কয়েক কোটি মানুষ দেখে ফেলেছেন। যেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে নদের পাড়ে দাঁড়ানোই দুঃসাধ্য, সেখানে ওই ব্যক্তিকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তাল জলরাশির ওপর শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, জলের প্রবল বেগে চারপাশ সাদা ফেনা হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ওই ব্যক্তির চোখেমুখে ভয়ের লেশমাত্র নেই। এই দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের অনেকেই স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। কেউ একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কারসাজি বলে সন্দেহ করছেন, আবার কেউ ওই ব্যক্তিকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে পর্যটন সংস্থাগুলোর মতে, এটি কোনো সাধারণ পর্যটকের কাজ নয়।
স্থানীয় ঐতিহ্য নাকি নিছক প্রাণঘাতী স্টান্ট
ভিডিওটি শেয়ারকারী ট্রাভেল এজেন্টের তথ্যানুযায়ী, এই দুসাহসিক কাজ আসলে স্থানীয় একটি সংস্কৃতির অংশ। নীল নদের অববাহিকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা শৈশব থেকেই এমন প্রতিকূল পরিবেশে সাঁতার কাটতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। প্রবল স্রোত আর ঘূর্ণাবর্তের মাঝে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়, তা তাদের জীবনযাপনেরই একটি অংশ। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য এই ধরনের কর্মকাণ্ডে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাধারণ পর্যটকদের কেবল নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত গাইডের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ‘হোয়াইট ওয়াটার র্যাফটিং’-এর অনুমতি দেওয়া হয়।
ভাইরাল হওয়ার নেশায় বাড়ছে ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা এই ভিডিওর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্রেফ জনপ্রিয়তা বা ভিউ পাওয়ার আশায় ইদানীং বিপজ্জনক স্টান্ট করার প্রবণতা বাড়ছে। নীল নদের মতো উত্তাল নদীতে যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া নামা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানির কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতাকে অনুকরণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই রোমহর্ষক ভিডিওটি একদিকে যেমন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন কর্মকাণ্ডের নৈতিকতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।